4. কংগ্রেসের সুরাট বিভাজন (Surat Split of INC - 1907)
(A) বিভাজনের মূল কারণসমূহ
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর কংগ্রেসের ভিতরে দুটি ভিন্ন চিন্তাধারার জন্ম হয়:
নরমপন্থী (Moderates): উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে, ফেরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পদ্ধতি: আইনানুগ ও সাংবিধানিক পথ (Petition & Prayer)। এরা স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনকে শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।
চরমপন্থী (Extremists): লাল-বাল-পাল (লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল) এবং অরবিন্দ ঘোষ।
পদ্ধতি: নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ (Passive Resistance) ও সর্বভারতীয় গণবয়কট। এরা আন্দোলনকে পুরো ভারতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
(B) সুরাট অধিবেশনের ঘটনাবলী (১৯০৭)
তারিখ ও স্থান: ডিসেম্বর, ১৯০৭; তাপ্তি নদীর তীরে অবস্থিত সুরাট (গুজরাট) শহরে।
⭐ অধিবেশনের সভাপতি: নরমপন্থী নেতা রাসবিহারী ঘোষ (Rashbehari Ghosh)। (চরমপন্থীরা চেয়েছিলেন লালা লাজপত রায় বা তিলককে সভাপতি করতে)।
সংঘাতের মূল বিন্দু: ১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে পাস হওয়া 'স্বদেশী', 'বয়কট', 'জাতীয় শিক্ষা' ও 'স্বরাজ' সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাতিল করা নিয়ে তর্কবিতর্ক চরম আকার ধারণ করে।
ফলাফল: সভার ভেতরে দু'পক্ষের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের কারণে কংগ্রেস ভেঙে যায়। নরমপন্থীরা চরমপন্থীদের কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করে।
ব্রিটিশদের প্রতিক্রিয়া: তিলককে গ্রেফতার করে ম্যান্ডালয় জেলে (বার্মা) ৬ বছরের জন্য বন্দি করা হয় এবং অরবিন্দ ঘোষ সক্রিয় রাজনীতি ত্যাগ করে পণ্ডিচেরিতে চলে যান। কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে, যাকে লর্ড মিন্টো "Great victory for us" বলে বর্ণনা করেছিলেন।
Table: নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী (Moderates vs Extremists)
বৈশিষ্ট্য | নরমপন্থী (Moderates) | চরমপন্থী (Extremists) |
প্রধান নেতা | গোখলে, ফেরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ | লালা লাজপত রায়, তিলক, বিপিন পাল, অরবিন্দ ঘোষ |
উদ্দেশ্য | ব্রিটিশ শাসনের অধীনে স্বায়ত্তশাসন (Dominion Status) | সম্পূর্ণ স্বরাজ (Swaraj / Complete Independence) |
পদ্ধতি | ৩-P (Prayer, Petition, Protest) | গণবয়কট, ধর্মঘট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ |
সামাজিক ভিত্তি | নগরভিত্তিক উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজ | মধ্যবিত্ত, যুবসমাজ ও গণসাধারণ |
সুরাট অধিবেশনে সভাপতি প্রার্থী | রাসবিহারী ঘোষ (বিজয়ী) | লালা লাজপত রায় / তিলক |
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
4. কংগ্রেসের সুরাট বিভাজন (Surat Split of INC - 1907)
(A) বিভাজনের মূল কারণসমূহ
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর কংগ্রেসের ভিতরে দুটি ভিন্ন চিন্তাধারার জন্ম হয়:
নরমপন্থী (Moderates): উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে, ফেরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পদ্ধতি: আইনানুগ ও সাংবিধানিক পথ (Petition & Prayer)। এরা স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনকে শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।
চরমপন্থী (Extremists): লাল-বাল-পাল (লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল) এবং অরবিন্দ ঘোষ।
পদ্ধতি: নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ (Passive Resistance) ও সর্বভারতীয় গণবয়কট। এরা আন্দোলনকে পুরো ভারতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
(B) সুরাট অধিবেশনের ঘটনাবলী (১৯০৭)
তারিখ ও স্থান: ডিসেম্বর, ১৯০৭; তাপ্তি নদীর তীরে অবস্থিত সুরাট (গুজরাট) শহরে।
⭐ অধিবেশনের সভাপতি: নরমপন্থী নেতা রাসবিহারী ঘোষ (Rashbehari Ghosh)। (চরমপন্থীরা চেয়েছিলেন লালা লাজপত রায় বা তিলককে সভাপতি করতে)।
সংঘাতের মূল বিন্দু: ১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে পাস হওয়া 'স্বদেশী', 'বয়কট', 'জাতীয় শিক্ষা' ও 'স্বরাজ' সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাতিল করা নিয়ে তর্কবিতর্ক চরম আকার ধারণ করে।
ফলাফল: সভার ভেতরে দু'পক্ষের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের কারণে কংগ্রেস ভেঙে যায়। নরমপন্থীরা চরমপন্থীদের কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করে।
ব্রিটিশদের প্রতিক্রিয়া: তিলককে গ্রেফতার করে ম্যান্ডালয় জেলে (বার্মা) ৬ বছরের জন্য বন্দি করা হয় এবং অরবিন্দ ঘোষ সক্রিয় রাজনীতি ত্যাগ করে পণ্ডিচেরিতে চলে যান। কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে, যাকে লর্ড মিন্টো "Great victory for us" বলে বর্ণনা করেছিলেন।
Table: নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী (Moderates vs Extremists)
বৈশিষ্ট্য | নরমপন্থী (Moderates) | চরমপন্থী (Extremists) |
প্রধান নেতা | গোখলে, ফেরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ | লালা লাজপত রায়, তিলক, বিপিন পাল, অরবিন্দ ঘোষ |
উদ্দেশ্য | ব্রিটিশ শাসনের অধীনে স্বায়ত্তশাসন (Dominion Status) | সম্পূর্ণ স্বরাজ (Swaraj / Complete Independence) |
পদ্ধতি | ৩-P (Prayer, Petition, Protest) | গণবয়কট, ধর্মঘট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ |
সামাজিক ভিত্তি | নগরভিত্তিক উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজ | মধ্যবিত্ত, যুবসমাজ ও গণসাধারণ |
সুরাট অধিবেশনে সভাপতি প্রার্থী | রাসবিহারী ঘোষ (বিজয়ী) | লালা লাজপত রায় / তিলক |