নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের সময়কাল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্তিম এবং সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। এই পর্বে দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়:
সশস্ত্র বিপ্লব ও আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA): নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ভারতসীমান্তের বাইরে থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য অভূতপূর্ব সশস্ত্র সংগ্রাম।
সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক হস্তান্তর (Constitutional Negotiations): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিপর্যস্ত ব্রিটিশ রাজের ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন, নৌবিদ্রোহ এবং অবশেষে লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা ও দেশভাগ।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ
(INA - 1943 to 1945)[MM1]
(A) বার্লিন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
গৃহবন্দি থেকে আত্মগোপন (Great Escape): ১৭ই জানুয়ারি, ১৯৪১ সালে কলকাতায় নিজ বাসভবন (এলগিন রোড) থেকে 'জিয়াউদ্দিন' ছদ্মবেশে আফগানিস্তান ও রাশিয়া হয়ে বার্লিন (জার্মানি) পৌঁছান।
ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার ও 'জয় হিন্দ': বার্লিনে 'ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার' গঠন করেন এবং বিখ্যাত জাতীয় সম্ভাষণ ⭐ "জয় হিন্দ" চালু করেন। জার্মানিতে তিনি ভারতীয় বন্দীদের নিয়ে 'ইন্ডিয়ান লিজিওন' গঠন করেন এবং সেখানেই প্রথম তাঁকে "নেতাজী" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সাবমেরিন যাত্রা: ১৯৪৩ সালে সাবমেরিনে (U-180 থেকে I-29) বিপদসঙ্কুল যাত্রা করে জার্মানি থেকে জাপানে পৌঁছান।
(B) আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army - INA) পুনর্গঠন
উৎস: ১৯৪২ সালে ক্যাপ্টেন মোহন সিং এবং রাসবিহারী বসু টোকিওতে INA গঠনের প্রস্তাব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণ: ৪ঠা জুলাই, ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে রাসবিহারী বসু 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ'-এর নেতৃত্ব নেতাজীর হাতে তুলে দেন।
⭐ অস্থায়ী স্বাধীন ভারত সরকার (Arzi Hukumat-e-Azad Hind): ২১শে অক্টোবর, ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে নেতাজী স্বাধীন ভারত সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
বিখ্যাত স্লোগান: "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" (Give me blood, and I will give you freedom!) এবং "দিল্লি চলো" (Delhi Chalo)।
ব্রিগেডসমূহ: গান্ধী ব্রিগেড, নেহেরু ব্রিগেড, আজাদ ব্রিগেড এবং মহিলাদের জন্য গঠিত ঐতিহাসিক ⭐ 'ঝাঁসির রানি ব্রিগেড' (নেতৃত্বে: ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগল / Swaminathan)।
(C) সামরিক অভিযান ও আন্দামান-নিকোবর
আন্দামান ও নিকোবর বিজয়: জাপান কর্তৃক হস্তান্তরিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নতুন নাম দেন যথাক্রমে ⭐ 'শহীদ দ্বীপ' (Shaheed Dweep) এবং 'স্বরাজ দ্বীপ' (Swaraj Dweep)।
ইম্ফল ও কোহিমা অভিযান (১৯৪৪): ১৯৪৪ সালের ১৮ই মার্চ আইএনএ ভারতের মাটিতে (মনিপুরের মৈরাং) প্রবেশ করে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। পরবর্তীতে বর্ষা ও রশদের অভাবে এবং জাপানের পরাজয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
অন্তর্ধাস/প্রয়াণ: ১৮ই আগস্ট, ১৯৪৫ সালে তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর অন্তর্ধান ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়।
(D) আইএনএ বিচার ও রিন (RIN) নৌবিদ্রোহ (১৯৪৫ - ১৯৪৬)
লালকেল্লা বিচার (Red Fort Trials - 1945): ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে আইএনএ অফিসারদের (শাহ নওয়াজ খান, প্রেম সেহগল, গুরুবক্স সিং ধিলন) বিচার শুরু হলে ভারতজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেন: স্যার তেজ বাহাদুর সপ্রু, ভুলাভাই দেশাই, জওহরলাল নেহেরু ও আসফ আলী।
⭐নৌবিদ্রোহ (Royal Indian Navy Mutiny - 1946):১৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬সালে বোম্বাইয়ের'HMIS Talwar'জাহাজে ভারতীয় নৌসেনারা (Ratings) বর্ণ বৈষম্য ও বাজে খাবারের প্রতিবাদে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বল্লভভাই প্যাটেল ও জিন্নাহর মধ্যস্থতায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারা আত্মসমর্পণ করে।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের সময়কাল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্তিম এবং সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। এই পর্বে দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়:
সশস্ত্র বিপ্লব ও আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA): নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ভারতসীমান্তের বাইরে থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য অভূতপূর্ব সশস্ত্র সংগ্রাম।
সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক হস্তান্তর (Constitutional Negotiations): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিপর্যস্ত ব্রিটিশ রাজের ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন, নৌবিদ্রোহ এবং অবশেষে লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা ও দেশভাগ।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ
(INA - 1943 to 1945)[MM1]
(A) বার্লিন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
গৃহবন্দি থেকে আত্মগোপন (Great Escape): ১৭ই জানুয়ারি, ১৯৪১ সালে কলকাতায় নিজ বাসভবন (এলগিন রোড) থেকে 'জিয়াউদ্দিন' ছদ্মবেশে আফগানিস্তান ও রাশিয়া হয়ে বার্লিন (জার্মানি) পৌঁছান।
ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার ও 'জয় হিন্দ': বার্লিনে 'ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার' গঠন করেন এবং বিখ্যাত জাতীয় সম্ভাষণ ⭐ "জয় হিন্দ" চালু করেন। জার্মানিতে তিনি ভারতীয় বন্দীদের নিয়ে 'ইন্ডিয়ান লিজিওন' গঠন করেন এবং সেখানেই প্রথম তাঁকে "নেতাজী" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সাবমেরিন যাত্রা: ১৯৪৩ সালে সাবমেরিনে (U-180 থেকে I-29) বিপদসঙ্কুল যাত্রা করে জার্মানি থেকে জাপানে পৌঁছান।
(B) আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army - INA) পুনর্গঠন
উৎস: ১৯৪২ সালে ক্যাপ্টেন মোহন সিং এবং রাসবিহারী বসু টোকিওতে INA গঠনের প্রস্তাব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণ: ৪ঠা জুলাই, ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে রাসবিহারী বসু 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ'-এর নেতৃত্ব নেতাজীর হাতে তুলে দেন।
⭐ অস্থায়ী স্বাধীন ভারত সরকার (Arzi Hukumat-e-Azad Hind): ২১শে অক্টোবর, ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে নেতাজী স্বাধীন ভারত সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
বিখ্যাত স্লোগান: "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" (Give me blood, and I will give you freedom!) এবং "দিল্লি চলো" (Delhi Chalo)।
ব্রিগেডসমূহ: গান্ধী ব্রিগেড, নেহেরু ব্রিগেড, আজাদ ব্রিগেড এবং মহিলাদের জন্য গঠিত ঐতিহাসিক ⭐ 'ঝাঁসির রানি ব্রিগেড' (নেতৃত্বে: ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগল / Swaminathan)।
(C) সামরিক অভিযান ও আন্দামান-নিকোবর
আন্দামান ও নিকোবর বিজয়: জাপান কর্তৃক হস্তান্তরিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নতুন নাম দেন যথাক্রমে ⭐ 'শহীদ দ্বীপ' (Shaheed Dweep) এবং 'স্বরাজ দ্বীপ' (Swaraj Dweep)।
ইম্ফল ও কোহিমা অভিযান (১৯৪৪): ১৯৪৪ সালের ১৮ই মার্চ আইএনএ ভারতের মাটিতে (মনিপুরের মৈরাং) প্রবেশ করে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। পরবর্তীতে বর্ষা ও রশদের অভাবে এবং জাপানের পরাজয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
অন্তর্ধাস/প্রয়াণ: ১৮ই আগস্ট, ১৯৪৫ সালে তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর অন্তর্ধান ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়।
(D) আইএনএ বিচার ও রিন (RIN) নৌবিদ্রোহ (১৯৪৫ - ১৯৪৬)
লালকেল্লা বিচার (Red Fort Trials - 1945): ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে আইএনএ অফিসারদের (শাহ নওয়াজ খান, প্রেম সেহগল, গুরুবক্স সিং ধিলন) বিচার শুরু হলে ভারতজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেন: স্যার তেজ বাহাদুর সপ্রু, ভুলাভাই দেশাই, জওহরলাল নেহেরু ও আসফ আলী।
⭐নৌবিদ্রোহ (Royal Indian Navy Mutiny - 1946):১৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬সালে বোম্বাইয়ের'HMIS Talwar'জাহাজে ভারতীয় নৌসেনারা (Ratings) বর্ণ বৈষম্য ও বাজে খাবারের প্রতিবাদে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বল্লভভাই প্যাটেল ও জিন্নাহর মধ্যস্থতায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারা আত্মসমর্পণ করে।