গান্ধীজি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৯১৫ - ১৯৪৭) (Gandhian Era)
১৯১৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কালকে "গান্ধী যুগ" (Gandhian Era) বলা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসার পর মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস সত্যগ্রহ এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনকে এলিট/শিক্ষিত শ্রেণীর গণ্ডি থেকে বের করে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে (Mass Movement) রূপান্তরিত করেন।
পুরো নাম: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (Mohandas Karamchand Gandhi)।
জন্ম ও প্রয়াণ: ২রা অক্টোবর, ১৮৬৯ (পোরবন্দর, গুজরাট) – ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৪৮ (নতুন দিল্লি)।
মহাত্মা উপাধি: ১৯১৭ সালের চাম্পারণ সত্যগ্রহের পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'মহাত্মা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
জাতির পিতা (Father of the Nation): ৬ই জুলাই, ১৯৪৪ সালে সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ রেডিওর মাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে 'জাতির পিতা' হিসেবে সম্ভাষণ জানান।
রাজনৈতিক গুরু: গোপাল কৃষ্ণ গোখলে (Gopal Krishna Gokhale)।
ভারত আগমন ও প্রাথমিক ৩টি সাফল্য (১৯১৫ - ১৯১৮)
⭐ ভারত আগমন: ৯ই জানুয়ারি, ১৯১৫ সালে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিরতরে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ৯ই জানুয়ারি "প্রবাসী ভারতীয় দিবস" (Pravasi Bharatiya Divas - PBD) হিসেবে পালিত হয়।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রপ্রবেশ: গুরু গোপাল কৃষ্ণ গোখলের পরামর্শে ভারতের সমাজ ও জীবনধারা বুঝতে তিনি প্রথম ১ বছর ভারত ভ্রমণে কাটান। পরবর্তীতে আহমেদাবাদে সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
গান্ধীজির ভারতের প্রাথমিক ৩টি মূল সত্যগ্রহ আন্দোলন
সত্যগ্রহ / আন্দোলন | বছর | স্থান / রাজ্য | কারণ / উদ্দেশ্য | বিশেষত্ব ও ফলাফল |
১. চাম্পারণ সত্যগ্রহ (Champaran Satyagraha) | ১৯১৭ | বিহার | ইউরোপীয় নীলকর সাহেবদের 'তিনকাঠিয়া প্রথা' (৩/২০ অংশে বাধ্যতামূলক নীল চাষ)-র বিরুদ্ধে। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম সফল সত্যগ্রহ। রাজকুমার শুক্লের আমন্ত্রণে গান্ধীজি যান। তিনকাঠিয়া প্রথা রদ হয়। |
২. আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (Ahmedabad Mill Strike) | ১৯১৮ | গুজরাট | প্লেগ বোনাস (Plague Bonus) ৩৫% বৃদ্ধির দাবিতে কাপড়ের কল শ্রমিকদের আন্দোলন। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম অনশন ধর্মঘট (Hunger Strike)। শ্রমিকরা ৩৫% বোনাস পায়। |
৩. খেদা সত্যগ্রহ (Kheda Satyagraha) | ১৯১৮ | গুজরাট | খরার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিরুদ্ধে। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম অসযোগ আন্দোলন। বল্লভভাই প্যাটেল ও ইন্দুলাল জাজ্ঞিক গান্ধীজির সাথে যোগ দেন। |
প্রধান ৪টি সর্বভারতীয় গণআন্দোলন (১৯১৯ - ১৯৪২)
(A) রাউলাট সত্যগ্রহ ও খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯ - ১৯২০)
রাউলাট সত্যগ্রহ (১৯১৯): বিনা বিচারে গ্রেফতার ও আটকের বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল গান্ধীজি ১ম সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দেন।
খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফার পদমর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের (শওকত আলী ও মোহাম্মদ আলী) নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে গান্ধীজি যোগ দেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ১৯১৯ সালে সর্বভারতীয় খিলাফত কনফারেন্সের সভাপতি হন।
অসহযোগ আন্দোলন (Non-Cooperation Movement - 1920 to 1922)
সূচনা: ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসের নাগপুর অধিবেশনে (সভাপতি: সি. বিজয়রাঘবাচারিয়ার) আন্দোলন অনুমোদিত হয়।
কর্মসূচি: সরকারি পদবী ও স্কুল-কলেজ বর্জন, বিদেশী বস্ত্র বর্জন এবং খাদি ও চরকা গ্রহণ।
⭐ চৌরিচৌরা ঘটনা ও প্রত্যাহার: ৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ সালে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা থানায় ক্ষুব্ধ জনতা আগুন দিলে ২২ জন পুলিশ মারা যান। এতে হিংসার অনুপ্রবেশ ঘটায় গান্ধীজি ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে (বারদোলি প্রস্তাব) একক সিদ্ধান্তে আন্দোলন স্থগিত করেন।
আইন অমান্য আন্দোলন ও ডান্ডি মার্চ (1930 to 1934)
⭐ ডান্ডি পদযাত্রা (Dandi March): ১২ই মার্চ, ১৯৩০ সালে আহমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে ২৪১ মাইল দূরে গুজরাটের উপকূলীয় গ্রাম ডান্ডির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
লবণ আইন ভঙ্গ: ৬ই এপ্রিল, ১৯৩০ সালে ডান্ডি উপকূলে নোনা জল ফুটিয়ে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
গান্ধী-আরউইন চুক্তি (৫ই মার্চ, ১৯৩১): ভাইসরয় লর্ড আরউইনের সাথে চুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত হয় এবং গান্ধীজি ২য় গোলটেবিল বৈঠকে (লন্ডন, ১৯৩১) কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement - 1942)
ঘোষণা: ৮ই আগস্ট, ১৯৪২ সালে বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে কংগ্রেসের অধিবেশনে আন্দোলন অনুমোদিত হয়।
⭐ ঐতিহাসিক আহ্বান: গান্ধীজি তাঁর বিখ্যাত স্লোগান দেন — "Do or Die" (করব অথবা মরব)।
অপারেশন জিরো আওয়ার (৯ই আগস্ট, ১৯৪২): ভোরের আগেই গান্ধীজিকে গ্রেফতার করে পুনের আগা খান প্যালেসে বন্দী করে রাখা হয়। এটি প্রধান নেতৃত্বহীন সর্বভারতীয় গণবিপ্লবে রূপ নেয়।
৩. Diagram & Flowchart
Table: গান্ধীজির প্রধান সংবাদপত্র ও বইপত্র
(A) প্রকাশিত বিখ্যাত সংবাদপত্র/পত্রিকা
পত্রিকার নাম | ভাষা | প্রকাশস্থল / বিবরণ |
Indian Opinion | ইংরেজি, গুজরাটি, তামিল | দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯০৩) |
Young India | ইংরেজি | ভারত (১৯১৯ - ১৯৩১) |
Navajivan | গুজরাটি ও হিন্দি | ভারত (১৯১৯ - ১৯৩১) |
Harijan | ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি | ভারত (১৯৩৩ - দলিতদের অধিকার রক্ষা) |
(B) গান্ধীজির বিখ্যাত বই ও আত্মজীবনী
আত্মজীবনী: ⭐ The Story of My Experiments with Truth (মূল ভাষা: গুজরাটি — Satya Na Prayogo)।
বিখ্যাত বই: Hind Swaraj (১৯০৯ সালে জাহাজে ভ্রমণের সময় গুজরাটিতে লেখা)।
Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে গান্ধীজি: গান্ধীজি তাঁর জীবনে মাত্র একবারই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন — ১৯২৪ সালের বেলগাঁও অধিবেশনে (Belgaum Session, Karnataka)।
⭐ পুনা চুক্তি (Poona Pact): ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সালে ইয়েরাওয়াডা জেলে গান্ধীজি (স্বাক্ষরকারী: মদন মোহন মালব্য) ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় (দলিতদের স্বতন্ত্র নির্বাচন বাতিল করে সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করা হয়)।
⭐ গান্ধীজির রচিত প্রিয় ভজন: "বৈষ্ণব জন তো তেনে কহিয়ে রে..." (রচয়িতা: নরসী মেহতা) এবং "রঘুপতি রাঘব রাজা রাম..." (সংগীতকার: লক্ষ্মণাচার্য/বিষ্ণু দিগম্বর পালুস্কর)।
⭐ গান্ধীজিকে কে কখন কী উপাধি দিয়েছিলেন?
মহাত্মা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ( champaান, ১৯১৭)।
জাতির পিতা: সুভাষচন্দ্র বসু (আজাদ হিন্দ রেডিও, ১৯৪৪)।
Half-Naked Seditious Fakir (অর্ধনগ্ন ফকির): উইনস্টন চার্চিল (গোলটেবিল বৈঠক, ১৯৩১)।
⭐ গান্ধীজির পকেটে থাকা ৪টি প্রধান আদর্শ নীতি: অহিংসা (Ahimsa), সত্যগ্রহ (Satyagraha), স্বরাজ (Swaraj), এবং সর্বোদয় (Sarvodaya)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: চাম্পারণ সত্যগ্রহে গান্ধীজি প্রথম অনশন ধর্মঘট করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: চাম্পারণে (১৯১৭) তিনি ১ম সত্যগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু প্রথম অনশন (Hunger Strike) করেছিলেন ১৯১৮ সালের আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘটে।
ভুলধারণা 2: গান্ধীজি বহুবার কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন।
সঠিক তথ্য: গান্ধীজি সুদীর্ঘ জীবনে মাত্র একবারই (১৯২৪ সালের বেলগাঁও অধিবেশনে) কংগ্রেস সভাপতি হন।
ভুলধারণা 3: ডান্ডি মার্চ ৬ই মার্চ ১৯৩০ শুরু হয়েছিল।
সঠিক তথ্য: যাত্রা শুরু হয় ১২ই মার্চ, ১৯৩০ এবং লবণ আইন ভাঙ্গা হয় ৬ই এপ্রিল, ১৯৩০।
৯. One Minute Revision (Quick Revision Notes)
ভারত আগমন: ৯ই জানুয়ারি ১৯১৫ (প্রবাসী ভারতীয় দিবস)।
রাজনৈতিক গুরু: গোপাল কৃষ্ণ গোখলে।
চাম্পারণ (১৯১৭): ১ম সত্যগ্রহ | নীল চাষের তিনকাঠিয়া প্রথা রদ।
আহমেদাবাদ (১৯১৮): ১ম অনশন ধর্মঘট | প্লেগ বোনাস ৩৫%।
খেদা (১৯১৮): ১ম অসহযোগ আন্দোলন | কৃষক রাজস্ব রদ।
অসহযোগ আন্দোলন: ১৯২০-১৯২২ | নাগপুর অধিবেশন | চৌরিচৌরা ঘটনার পর প্রত্যাহার (১৯২২)।
একমাত্র কংগ্রেস সভাপতি: ১৯২৪ (বেলগাঁও অধিবেশন)।
ডান্ডি মার্চ: ১২ মার্চ - ৬ এপ্রিল ১৯৩০ | ৭৮ জন অনুগামী | লবণ আইন অমান্য।
পুনা চুক্তি: ১৯৩২ | গান্ধী ও আম্বেদকর (মদন মোহন মালব্য স্বাক্ষর করেন)।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন: ১৯৪২ | গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক, বম্বে | স্লোগান: "Do or Die"।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
গান্ধীজি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৯১৫ - ১৯৪৭) (Gandhian Era)
১৯১৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কালকে "গান্ধী যুগ" (Gandhian Era) বলা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসার পর মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস সত্যগ্রহ এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনকে এলিট/শিক্ষিত শ্রেণীর গণ্ডি থেকে বের করে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে (Mass Movement) রূপান্তরিত করেন।
পুরো নাম: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (Mohandas Karamchand Gandhi)।
জন্ম ও প্রয়াণ: ২রা অক্টোবর, ১৮৬৯ (পোরবন্দর, গুজরাট) – ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৪৮ (নতুন দিল্লি)।
মহাত্মা উপাধি: ১৯১৭ সালের চাম্পারণ সত্যগ্রহের পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'মহাত্মা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
জাতির পিতা (Father of the Nation): ৬ই জুলাই, ১৯৪৪ সালে সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ রেডিওর মাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে 'জাতির পিতা' হিসেবে সম্ভাষণ জানান।
রাজনৈতিক গুরু: গোপাল কৃষ্ণ গোখলে (Gopal Krishna Gokhale)।
ভারত আগমন ও প্রাথমিক ৩টি সাফল্য (১৯১৫ - ১৯১৮)
⭐ ভারত আগমন: ৯ই জানুয়ারি, ১৯১৫ সালে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিরতরে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ৯ই জানুয়ারি "প্রবাসী ভারতীয় দিবস" (Pravasi Bharatiya Divas - PBD) হিসেবে পালিত হয়।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রপ্রবেশ: গুরু গোপাল কৃষ্ণ গোখলের পরামর্শে ভারতের সমাজ ও জীবনধারা বুঝতে তিনি প্রথম ১ বছর ভারত ভ্রমণে কাটান। পরবর্তীতে আহমেদাবাদে সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
গান্ধীজির ভারতের প্রাথমিক ৩টি মূল সত্যগ্রহ আন্দোলন
সত্যগ্রহ / আন্দোলন | বছর | স্থান / রাজ্য | কারণ / উদ্দেশ্য | বিশেষত্ব ও ফলাফল |
১. চাম্পারণ সত্যগ্রহ (Champaran Satyagraha) | ১৯১৭ | বিহার | ইউরোপীয় নীলকর সাহেবদের 'তিনকাঠিয়া প্রথা' (৩/২০ অংশে বাধ্যতামূলক নীল চাষ)-র বিরুদ্ধে। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম সফল সত্যগ্রহ। রাজকুমার শুক্লের আমন্ত্রণে গান্ধীজি যান। তিনকাঠিয়া প্রথা রদ হয়। |
২. আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (Ahmedabad Mill Strike) | ১৯১৮ | গুজরাট | প্লেগ বোনাস (Plague Bonus) ৩৫% বৃদ্ধির দাবিতে কাপড়ের কল শ্রমিকদের আন্দোলন। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম অনশন ধর্মঘট (Hunger Strike)। শ্রমিকরা ৩৫% বোনাস পায়। |
৩. খেদা সত্যগ্রহ (Kheda Satyagraha) | ১৯১৮ | গুজরাট | খরার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিরুদ্ধে। | ⭐ ভারতে গান্ধীজির ১ম অসযোগ আন্দোলন। বল্লভভাই প্যাটেল ও ইন্দুলাল জাজ্ঞিক গান্ধীজির সাথে যোগ দেন। |
প্রধান ৪টি সর্বভারতীয় গণআন্দোলন (১৯১৯ - ১৯৪২)
(A) রাউলাট সত্যগ্রহ ও খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯ - ১৯২০)
রাউলাট সত্যগ্রহ (১৯১৯): বিনা বিচারে গ্রেফতার ও আটকের বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল গান্ধীজি ১ম সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দেন।
খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফার পদমর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের (শওকত আলী ও মোহাম্মদ আলী) নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে গান্ধীজি যোগ দেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ১৯১৯ সালে সর্বভারতীয় খিলাফত কনফারেন্সের সভাপতি হন।
অসহযোগ আন্দোলন (Non-Cooperation Movement - 1920 to 1922)
সূচনা: ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসের নাগপুর অধিবেশনে (সভাপতি: সি. বিজয়রাঘবাচারিয়ার) আন্দোলন অনুমোদিত হয়।
কর্মসূচি: সরকারি পদবী ও স্কুল-কলেজ বর্জন, বিদেশী বস্ত্র বর্জন এবং খাদি ও চরকা গ্রহণ।
⭐ চৌরিচৌরা ঘটনা ও প্রত্যাহার: ৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ সালে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা থানায় ক্ষুব্ধ জনতা আগুন দিলে ২২ জন পুলিশ মারা যান। এতে হিংসার অনুপ্রবেশ ঘটায় গান্ধীজি ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে (বারদোলি প্রস্তাব) একক সিদ্ধান্তে আন্দোলন স্থগিত করেন।
আইন অমান্য আন্দোলন ও ডান্ডি মার্চ (1930 to 1934)
⭐ ডান্ডি পদযাত্রা (Dandi March): ১২ই মার্চ, ১৯৩০ সালে আহমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে ২৪১ মাইল দূরে গুজরাটের উপকূলীয় গ্রাম ডান্ডির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
লবণ আইন ভঙ্গ: ৬ই এপ্রিল, ১৯৩০ সালে ডান্ডি উপকূলে নোনা জল ফুটিয়ে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
গান্ধী-আরউইন চুক্তি (৫ই মার্চ, ১৯৩১): ভাইসরয় লর্ড আরউইনের সাথে চুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত হয় এবং গান্ধীজি ২য় গোলটেবিল বৈঠকে (লন্ডন, ১৯৩১) কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement - 1942)
ঘোষণা: ৮ই আগস্ট, ১৯৪২ সালে বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে কংগ্রেসের অধিবেশনে আন্দোলন অনুমোদিত হয়।
⭐ ঐতিহাসিক আহ্বান: গান্ধীজি তাঁর বিখ্যাত স্লোগান দেন — "Do or Die" (করব অথবা মরব)।
অপারেশন জিরো আওয়ার (৯ই আগস্ট, ১৯৪২): ভোরের আগেই গান্ধীজিকে গ্রেফতার করে পুনের আগা খান প্যালেসে বন্দী করে রাখা হয়। এটি প্রধান নেতৃত্বহীন সর্বভারতীয় গণবিপ্লবে রূপ নেয়।
৩. Diagram & Flowchart
Table: গান্ধীজির প্রধান সংবাদপত্র ও বইপত্র
(A) প্রকাশিত বিখ্যাত সংবাদপত্র/পত্রিকা
পত্রিকার নাম | ভাষা | প্রকাশস্থল / বিবরণ |
Indian Opinion | ইংরেজি, গুজরাটি, তামিল | দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯০৩) |
Young India | ইংরেজি | ভারত (১৯১৯ - ১৯৩১) |
Navajivan | গুজরাটি ও হিন্দি | ভারত (১৯১৯ - ১৯৩১) |
Harijan | ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি | ভারত (১৯৩৩ - দলিতদের অধিকার রক্ষা) |
(B) গান্ধীজির বিখ্যাত বই ও আত্মজীবনী
আত্মজীবনী: ⭐ The Story of My Experiments with Truth (মূল ভাষা: গুজরাটি — Satya Na Prayogo)।
বিখ্যাত বই: Hind Swaraj (১৯০৯ সালে জাহাজে ভ্রমণের সময় গুজরাটিতে লেখা)।
Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে গান্ধীজি: গান্ধীজি তাঁর জীবনে মাত্র একবারই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন — ১৯২৪ সালের বেলগাঁও অধিবেশনে (Belgaum Session, Karnataka)।
⭐ পুনা চুক্তি (Poona Pact): ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সালে ইয়েরাওয়াডা জেলে গান্ধীজি (স্বাক্ষরকারী: মদন মোহন মালব্য) ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় (দলিতদের স্বতন্ত্র নির্বাচন বাতিল করে সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করা হয়)।
⭐ গান্ধীজির রচিত প্রিয় ভজন: "বৈষ্ণব জন তো তেনে কহিয়ে রে..." (রচয়িতা: নরসী মেহতা) এবং "রঘুপতি রাঘব রাজা রাম..." (সংগীতকার: লক্ষ্মণাচার্য/বিষ্ণু দিগম্বর পালুস্কর)।
⭐ গান্ধীজিকে কে কখন কী উপাধি দিয়েছিলেন?
মহাত্মা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ( champaান, ১৯১৭)।
জাতির পিতা: সুভাষচন্দ্র বসু (আজাদ হিন্দ রেডিও, ১৯৪৪)।
Half-Naked Seditious Fakir (অর্ধনগ্ন ফকির): উইনস্টন চার্চিল (গোলটেবিল বৈঠক, ১৯৩১)।
⭐ গান্ধীজির পকেটে থাকা ৪টি প্রধান আদর্শ নীতি: অহিংসা (Ahimsa), সত্যগ্রহ (Satyagraha), স্বরাজ (Swaraj), এবং সর্বোদয় (Sarvodaya)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: চাম্পারণ সত্যগ্রহে গান্ধীজি প্রথম অনশন ধর্মঘট করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: চাম্পারণে (১৯১৭) তিনি ১ম সত্যগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু প্রথম অনশন (Hunger Strike) করেছিলেন ১৯১৮ সালের আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘটে।
ভুলধারণা 2: গান্ধীজি বহুবার কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন।
সঠিক তথ্য: গান্ধীজি সুদীর্ঘ জীবনে মাত্র একবারই (১৯২৪ সালের বেলগাঁও অধিবেশনে) কংগ্রেস সভাপতি হন।
ভুলধারণা 3: ডান্ডি মার্চ ৬ই মার্চ ১৯৩০ শুরু হয়েছিল।
সঠিক তথ্য: যাত্রা শুরু হয় ১২ই মার্চ, ১৯৩০ এবং লবণ আইন ভাঙ্গা হয় ৬ই এপ্রিল, ১৯৩০।
৯. One Minute Revision (Quick Revision Notes)
ভারত আগমন: ৯ই জানুয়ারি ১৯১৫ (প্রবাসী ভারতীয় দিবস)।
রাজনৈতিক গুরু: গোপাল কৃষ্ণ গোখলে।
চাম্পারণ (১৯১৭): ১ম সত্যগ্রহ | নীল চাষের তিনকাঠিয়া প্রথা রদ।
আহমেদাবাদ (১৯১৮): ১ম অনশন ধর্মঘট | প্লেগ বোনাস ৩৫%।
খেদা (১৯১৮): ১ম অসহযোগ আন্দোলন | কৃষক রাজস্ব রদ।
অসহযোগ আন্দোলন: ১৯২০-১৯২২ | নাগপুর অধিবেশন | চৌরিচৌরা ঘটনার পর প্রত্যাহার (১৯২২)।
একমাত্র কংগ্রেস সভাপতি: ১৯২৪ (বেলগাঁও অধিবেশন)।
ডান্ডি মার্চ: ১২ মার্চ - ৬ এপ্রিল ১৯৩০ | ৭৮ জন অনুগামী | লবণ আইন অমান্য।
পুনা চুক্তি: ১৯৩২ | গান্ধী ও আম্বেদকর (মদন মোহন মালব্য স্বাক্ষর করেন)।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন: ১৯৪২ | গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক, বম্বে | স্লোগান: "Do or Die"।