প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, হোম রুল আন্দোলন এবং লখনউ চুক্তি (১৯১৪ - ১৯১৬)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে এক নতুন জোয়ার আসে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪): ব্রিটেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং করের বোঝা বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় নেতাদের আশা ছিল—যুদ্ধে ব্রিটিশদের সাহায্য করলে যুদ্ধের পর ব্রিটেন ভারতকে স্বায়ত্তশাসন দেবে।
হোম রুল আন্দোলন (১৯১৬): আইরিশ (আয়ারল্যান্ড) 'Home Rule Movement'-এর অনুকরণে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাল গঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত ১৯১৬ সালে দুটি পৃথক 'হোম রুল লীগ' গঠন করে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।
লখনউ চুক্তি (১৯১৬): ১৯১৬ সালের লখনউ অধিবেশনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐক্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
হোম রুল আন্দোলন (Home Rule Movement - 1916)
(A) আন্দোলন গঠনের প্রেক্ষাপট
বার্মার ম্যান্ডালয় জেল থেকে ১৯১৪ সালে তিলকের মুক্তি এবং আয়ারল্যান্ডের অ্যানি বেসান্তের ভারতের রাজনীতিতে আগমন।
বিশ্বযুদ্ধের চাপে ব্রিটিশ রাজের সংকট এবং চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের পুনঃএকত্রীকরণের প্রচেষ্টা।
(B) দুটি হোম রুল লীগের তুলনা ⭐
বৈশিষ্ট্য | তিলকের হোম রুল লীগ (Tilak's League) | অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ (Besant's League) |
প্রতিষ্ঠার সময় | এপ্রিল, ১৯১৬ (বেলগাঁও/পুনে) | সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ (মাদ্রাজ/আদিয়ার) |
ক্ষেত্র/এলাকা | মহারাষ্ট্র (মুম্বাই বাদে), কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও বেরার। | তিলকের আওতাধীন এলাকা বাদে ভারতের সমগ্র অবশিষ্টাংশ। |
সংবাদপত্র/পত্রিকা | ⭐ 'কেশরী' (মারাঠি) ও 'মারাঠা' (ইংরেজি)। | ⭐ 'নিউ ইন্ডিয়া' ও 'কমনউইল' (ইংরেজি)। |
প্রচারক/সহযোগী | জি. এস. খাপারদে, এন. সি. কে kelkar। | জর্জ অ্যারুনডেল (সম্পাদক), সি. পি. রামস্বামী আইয়ার, বি. পি. ওয়াদিয়া। |
মূল স্লোগান | "Swaraj is my birthright and I shall have it" | আইরিশ মডেলের স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষা বিস্তার। |
(C) আন্দোলনের প্রভাব ও পতন
প্রভাব: তরুণ সমাজ ও গ্রামীণ স্তরে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। মতিলাল নেহেরু, জওহরলাল নেহেরু, সি. আর. দাস, মহম্মদ আলী জিন্নাহ আন্দোলনের সমর্থক হন।
ব্রিটিশদের পদক্ষেপ: ১৯১৭ সালে অ্যানি বেসান্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবাদে এস. সুব্রহ্মণ্য আইয়ার তাঁর 'নাইটহুড' (Knighthood) উপাধি ত্যাগ করেন।
পতন/সমাপ্তি: ১৯১৭ সালে ভাইসরয় মন্ট্যাগু ঐতিহাসিক 'August Declaration' প্রকাশ করে ভারতে ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে এবং তিলক 'ইন্ডিয়ান আনরেস্ট' বইয়ের লেখক ভ্যালেন্টাইন চিরোলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে বিলেতে চলে গেলে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে।
লখনউ চুক্তি ও লখনউ অধিবেশন (Lucknow Session - 1916)
১৯১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের লখনউ অধিবেশন ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
(A) প্রধান দুটি ঘটনা
কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মিলন: ১৯০৭ সালের সুরাট বিভাজনের পর দীর্ঘ ৯ বছর পর নরমপন্থী ও চরমপন্থীরা পুনরায় একই ছাদের তলায় আসেন। এতে অ্যানি বেসান্ত ও তিলকের প্রধান ভূমিকা ছিল।
কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ চুক্তি (Lucknow Pact): কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ বিরোধী যৌথ রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
(B) অধিবেশন সংক্রান্ত তথ্য ⭐
স্থান ও সময়: লখনউ, ডিসেম্বর ১৯১৬।
⭐ অধিবেশনের সভাপতি: অম্বিকা চরণ মজুমদার (Ambica Charan Mazumdar)।
প্রধান স্থপতি (Lakhnow Pact Architects): বাল গঙ্গাধর তিলক এবং মহম্মদ আলী জিন্নাহ (যাকে সরোজিনী নাইডু এই ঐক্যের জন্য "Ambassador of Hindu-Muslim Unity" আখ্যা দিয়েছিলেন)।
(C) চুক্তির প্রধান শর্তাবলী ও বিতর্ক
স্বীকৃতি: কংগ্রেস প্রথমবারের মতো ১৯০৯ সালের মরলে-মিন্টো সংস্কারের অধীনে মুসলিমদের জন্য প্রবর্তিত 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' (Separate Electorate) মেনে নেয়।
যৌথ দাবি: উভয় দল কেন্দ্র ও রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বায়ত্তশাসনের যৌথ দাবি উপস্থাপন করে।
⭐ সমালোচনা: বহু ঐতিহাসিক (যেমন: আর. সি. মজুমদার) মনে করেন কংগ্রেস কর্তৃক 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' মেনে নেওয়া ভবিষ্যতে ধর্মীয় তোষণ নীতি ও ভারত বিভাজনের (Partition) বীজ রোপণ করেছিল।
Table: তিলক বনাম অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ
বৈশিষ্ট্য | তিলকের হোম রুল লীগ | অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ |
প্রতিষ্ঠার স্থান | বেলগাঁও (পুনে) | আদিয়ার (মাদ্রাজ) |
শাখা (Branches) | ৬টি নির্দিষ্ট শাখা | ২০০+ শাখা (সারা ভারতজুড়ে বিস্তৃত) |
মুখপত্র/পত্রিকা | কেশরী (মারাঠি) ও মারাঠা (ইংরেজি) | নিউ ইন্ডিয়া ও কমনউইল |
মূল বার্তা | ভাষাগত রাজ্য পুনর্গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও স্বরাজ | সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বায়ত্তশাসন |
৫. Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ 'Home Rule' ধারণাটি কোন দেশ থেকে নেওয়া হয়েছিল? আয়ারল্যান্ড (Ireland)।
⭐ কংগ্রেসের ১৯১৬ সালের লখনউ সেশনের সভাপতি কে ছিলেন? অম্বিকা চরণ মজুমদার।
⭐ অ্যানি বেসান্তের দুটি বিখ্যাত সংবাদপত্র: New India এবং Commonweal।
⭐ বাল গঙ্গাধর তিলকের দুটি বিখ্যাত সংবাদপত্র: Kesari (মারাঠি) এবং Mahratta (ইংরেজি)।
⭐ কাকে "হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত" (Ambassador of Hindu-Muslim Unity) বলা হয়েছিল? মহম্মদ আলী জিন্নাহকে (সরোজিনী নাইডু এই আখ্যা দেন)।
⭐ অ্যানি বেসান্তকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে কে 'নাইটহুড' ত্যাগ করেন? স্যার এস. সুব্রহ্মণ্য আইয়ার (Sir S. Subramania Iyer)।
⭐ কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি কে হন? অ্যানি বেসান্ত (১৯১৭ সালের কলকাতা অধিবেশনে)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: অ্যানি বেসান্ত ভারতে প্রথম হোম রুল লীগ স্থাপন করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: তিলক প্রথম এপ্রিল ১৯১৬ সালে বেলগাঁও-এ হোম রুল লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যানি বেসান্ত পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সালে নিজের লীগ শুরু করেন।
ভুলধারণা 2: 'মারাঠা' (Mahratta) পত্রিকাটির ভাষা ছিল মারাঠি।
সঠিক তথ্য: তিলকের 'মারাঠা' পত্রিকাটি ছিল ইংরেজি ভাষায়, আর 'কেশরী' পত্রিকাটি ছিল মারাঠি ভাষায়।
ভুলধারণা 3: সুরাট বিভাজনের মতো লখনউ অধিবেশনেও নরমপন্থী-চরমপন্থীদের কোনো সমঝোতা হয়নি।
সঠিক তথ্য: ১৯১৬ সালের লখনউ অধিবেশনেই নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের ঐতিহাসিক পুনর্মিলন ঘটেছিল।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: ১৯১৪-১৯১৮ | ভারতে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
হোম রুল আন্দোলন: আয়ারল্যান্ডের মডেলে গঠিত | স্বায়ত্তশাসন মূল দাবি।
তিলকের লীগ: এপ্রিল ১৯১৬ | পুনে/বেলগাঁও | পত্রিকা: কেশরী ও মারাঠা।
বেসান্তের লীগ: সেপ্টেম্বর ১৯১৬ | আদিয়ার (মাদ্রাজ) | পত্রিকা: নিউ ইন্ডিয়া ও কমনউইল।
লখনউ অধিবেশন (১৯১৬): সভাপতি: অম্বিকা চরণ মজুমদার।
লখনউ চুক্তি (১৯১৬): কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক চুক্তি | 'পৃথক নির্বাচন' স্বীকার।
পুনর্মিলন: নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের একত্রীকরণ।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, হোম রুল আন্দোলন এবং লখনউ চুক্তি (১৯১৪ - ১৯১৬)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে এক নতুন জোয়ার আসে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪): ব্রিটেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং করের বোঝা বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় নেতাদের আশা ছিল—যুদ্ধে ব্রিটিশদের সাহায্য করলে যুদ্ধের পর ব্রিটেন ভারতকে স্বায়ত্তশাসন দেবে।
হোম রুল আন্দোলন (১৯১৬): আইরিশ (আয়ারল্যান্ড) 'Home Rule Movement'-এর অনুকরণে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাল গঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত ১৯১৬ সালে দুটি পৃথক 'হোম রুল লীগ' গঠন করে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।
লখনউ চুক্তি (১৯১৬): ১৯১৬ সালের লখনউ অধিবেশনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐক্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
হোম রুল আন্দোলন (Home Rule Movement - 1916)
(A) আন্দোলন গঠনের প্রেক্ষাপট
বার্মার ম্যান্ডালয় জেল থেকে ১৯১৪ সালে তিলকের মুক্তি এবং আয়ারল্যান্ডের অ্যানি বেসান্তের ভারতের রাজনীতিতে আগমন।
বিশ্বযুদ্ধের চাপে ব্রিটিশ রাজের সংকট এবং চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের পুনঃএকত্রীকরণের প্রচেষ্টা।
(B) দুটি হোম রুল লীগের তুলনা ⭐
বৈশিষ্ট্য | তিলকের হোম রুল লীগ (Tilak's League) | অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ (Besant's League) |
প্রতিষ্ঠার সময় | এপ্রিল, ১৯১৬ (বেলগাঁও/পুনে) | সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ (মাদ্রাজ/আদিয়ার) |
ক্ষেত্র/এলাকা | মহারাষ্ট্র (মুম্বাই বাদে), কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও বেরার। | তিলকের আওতাধীন এলাকা বাদে ভারতের সমগ্র অবশিষ্টাংশ। |
সংবাদপত্র/পত্রিকা | ⭐ 'কেশরী' (মারাঠি) ও 'মারাঠা' (ইংরেজি)। | ⭐ 'নিউ ইন্ডিয়া' ও 'কমনউইল' (ইংরেজি)। |
প্রচারক/সহযোগী | জি. এস. খাপারদে, এন. সি. কে kelkar। | জর্জ অ্যারুনডেল (সম্পাদক), সি. পি. রামস্বামী আইয়ার, বি. পি. ওয়াদিয়া। |
মূল স্লোগান | "Swaraj is my birthright and I shall have it" | আইরিশ মডেলের স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষা বিস্তার। |
(C) আন্দোলনের প্রভাব ও পতন
প্রভাব: তরুণ সমাজ ও গ্রামীণ স্তরে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। মতিলাল নেহেরু, জওহরলাল নেহেরু, সি. আর. দাস, মহম্মদ আলী জিন্নাহ আন্দোলনের সমর্থক হন।
ব্রিটিশদের পদক্ষেপ: ১৯১৭ সালে অ্যানি বেসান্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবাদে এস. সুব্রহ্মণ্য আইয়ার তাঁর 'নাইটহুড' (Knighthood) উপাধি ত্যাগ করেন।
পতন/সমাপ্তি: ১৯১৭ সালে ভাইসরয় মন্ট্যাগু ঐতিহাসিক 'August Declaration' প্রকাশ করে ভারতে ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে এবং তিলক 'ইন্ডিয়ান আনরেস্ট' বইয়ের লেখক ভ্যালেন্টাইন চিরোলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে বিলেতে চলে গেলে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে।
লখনউ চুক্তি ও লখনউ অধিবেশন (Lucknow Session - 1916)
১৯১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের লখনউ অধিবেশন ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
(A) প্রধান দুটি ঘটনা
কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মিলন: ১৯০৭ সালের সুরাট বিভাজনের পর দীর্ঘ ৯ বছর পর নরমপন্থী ও চরমপন্থীরা পুনরায় একই ছাদের তলায় আসেন। এতে অ্যানি বেসান্ত ও তিলকের প্রধান ভূমিকা ছিল।
কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ চুক্তি (Lucknow Pact): কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ বিরোধী যৌথ রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
(B) অধিবেশন সংক্রান্ত তথ্য ⭐
স্থান ও সময়: লখনউ, ডিসেম্বর ১৯১৬।
⭐ অধিবেশনের সভাপতি: অম্বিকা চরণ মজুমদার (Ambica Charan Mazumdar)।
প্রধান স্থপতি (Lakhnow Pact Architects): বাল গঙ্গাধর তিলক এবং মহম্মদ আলী জিন্নাহ (যাকে সরোজিনী নাইডু এই ঐক্যের জন্য "Ambassador of Hindu-Muslim Unity" আখ্যা দিয়েছিলেন)।
(C) চুক্তির প্রধান শর্তাবলী ও বিতর্ক
স্বীকৃতি: কংগ্রেস প্রথমবারের মতো ১৯০৯ সালের মরলে-মিন্টো সংস্কারের অধীনে মুসলিমদের জন্য প্রবর্তিত 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' (Separate Electorate) মেনে নেয়।
যৌথ দাবি: উভয় দল কেন্দ্র ও রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বায়ত্তশাসনের যৌথ দাবি উপস্থাপন করে।
⭐ সমালোচনা: বহু ঐতিহাসিক (যেমন: আর. সি. মজুমদার) মনে করেন কংগ্রেস কর্তৃক 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' মেনে নেওয়া ভবিষ্যতে ধর্মীয় তোষণ নীতি ও ভারত বিভাজনের (Partition) বীজ রোপণ করেছিল।
Table: তিলক বনাম অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ
বৈশিষ্ট্য | তিলকের হোম রুল লীগ | অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ |
প্রতিষ্ঠার স্থান | বেলগাঁও (পুনে) | আদিয়ার (মাদ্রাজ) |
শাখা (Branches) | ৬টি নির্দিষ্ট শাখা | ২০০+ শাখা (সারা ভারতজুড়ে বিস্তৃত) |
মুখপত্র/পত্রিকা | কেশরী (মারাঠি) ও মারাঠা (ইংরেজি) | নিউ ইন্ডিয়া ও কমনউইল |
মূল বার্তা | ভাষাগত রাজ্য পুনর্গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও স্বরাজ | সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বায়ত্তশাসন |
৫. Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ 'Home Rule' ধারণাটি কোন দেশ থেকে নেওয়া হয়েছিল? আয়ারল্যান্ড (Ireland)।
⭐ কংগ্রেসের ১৯১৬ সালের লখনউ সেশনের সভাপতি কে ছিলেন? অম্বিকা চরণ মজুমদার।
⭐ অ্যানি বেসান্তের দুটি বিখ্যাত সংবাদপত্র: New India এবং Commonweal।
⭐ বাল গঙ্গাধর তিলকের দুটি বিখ্যাত সংবাদপত্র: Kesari (মারাঠি) এবং Mahratta (ইংরেজি)।
⭐ কাকে "হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত" (Ambassador of Hindu-Muslim Unity) বলা হয়েছিল? মহম্মদ আলী জিন্নাহকে (সরোজিনী নাইডু এই আখ্যা দেন)।
⭐ অ্যানি বেসান্তকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে কে 'নাইটহুড' ত্যাগ করেন? স্যার এস. সুব্রহ্মণ্য আইয়ার (Sir S. Subramania Iyer)।
⭐ কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি কে হন? অ্যানি বেসান্ত (১৯১৭ সালের কলকাতা অধিবেশনে)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: অ্যানি বেসান্ত ভারতে প্রথম হোম রুল লীগ স্থাপন করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: তিলক প্রথম এপ্রিল ১৯১৬ সালে বেলগাঁও-এ হোম রুল লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যানি বেসান্ত পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সালে নিজের লীগ শুরু করেন।
ভুলধারণা 2: 'মারাঠা' (Mahratta) পত্রিকাটির ভাষা ছিল মারাঠি।
সঠিক তথ্য: তিলকের 'মারাঠা' পত্রিকাটি ছিল ইংরেজি ভাষায়, আর 'কেশরী' পত্রিকাটি ছিল মারাঠি ভাষায়।
ভুলধারণা 3: সুরাট বিভাজনের মতো লখনউ অধিবেশনেও নরমপন্থী-চরমপন্থীদের কোনো সমঝোতা হয়নি।
সঠিক তথ্য: ১৯১৬ সালের লখনউ অধিবেশনেই নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের ঐতিহাসিক পুনর্মিলন ঘটেছিল।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: ১৯১৪-১৯১৮ | ভারতে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
হোম রুল আন্দোলন: আয়ারল্যান্ডের মডেলে গঠিত | স্বায়ত্তশাসন মূল দাবি।
তিলকের লীগ: এপ্রিল ১৯১৬ | পুনে/বেলগাঁও | পত্রিকা: কেশরী ও মারাঠা।
বেসান্তের লীগ: সেপ্টেম্বর ১৯১৬ | আদিয়ার (মাদ্রাজ) | পত্রিকা: নিউ ইন্ডিয়া ও কমনউইল।
লখনউ অধিবেশন (১৯১৬): সভাপতি: অম্বিকা চরণ মজুমদার।
লখনউ চুক্তি (১৯১৬): কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক চুক্তি | 'পৃথক নির্বাচন' স্বীকার।
পুনর্মিলন: নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের একত্রীকরণ।