ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) — সম্পূর্ণ পরীক্ষামুখী স্টাডি মেটেরিয়াল
১. বিস্তারিত বাংলা নোট (Comprehensive Notes)
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন। ব্রিটিশ অবসরপ্রাপ্ত আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (Allan Octavian Hume)-এর উদ্যোগে এবং তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন (Lord Dufferin)-এর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে এই দলের জন্ম হয়। প্রথম দিকে এটি একটি আবেদন-নিবেদনপন্থী (নরমপন্থী) সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও, কালক্রমে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা (Foundation and Background)
প্রতিষ্ঠা দিবস: ২৮ ডিসেম্বর, ১৮৮৫।
প্রতিষ্ঠার স্থান: বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ।
নোট: প্রথমে এই অধিবেশনটি পুনে (Poona)-তে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে হঠাৎ প্লেগ (and cholera) মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করে বোম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠাতা: অবসরপ্রাপ্ত স্কটিশ আই.সি.এস (ICS) অফিসার অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume)।
প্রথম সভাপতি: বিশিষ্ট বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee)।
প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধি: ৭২ জন। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৮ জন প্রতিনিধি ছিলেন বোম্বাই প্রেসিডেন্সি থেকে।
প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইসরয়: লর্ড ডাফরিন (Lord Dufferin) (১৮৮৪-১৮৮৮)।
কংগ্রেসের পূর্বসূরী নাম: হিউম প্রথমে এই সংগঠনের নাম রেখেছিলেন 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ইউনিয়ন' (Indian National Union)। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে দাদাভাই নওরোজী-র পরামর্শে 'ইউনিয়ন' শব্দটি বদলে 'কংগ্রেস' (Congress) রাখা হয়। (কংগ্রেস শব্দটি আমেরিকার সংবিধান থেকে নেওয়া, যার অর্থ 'জনসমাবেশ')।
সেফটি ভালভ তত্ত্ব (Safety Valve Theory)
কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। লালা লাজপত রায়, রজনী পাম দত্ত প্রমুখের মতে, ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের মতো আর কোনো গণ-বিদ্রোহ যাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন এবং অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম মিলে ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমনের একটি 'নিরাপত্তা বলয়' বা "সেফটি ভালভ" হিসেবে কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। লালা লাজপত রায় ১৯১৬ সালে তাঁর 'ইয়ং ইন্ডিয়া' (Young India) পত্রিকায় এই তত্ত্বটি তুলে ধরেন।
কংগ্রেসের তিনটি পর্যায় (Three Phases of INC)
কংগ্রেসের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা যায়:
নরমপন্থী যুগ (Moderate Phase): ১৮৮৫ - ১৯০৫ (নেতৃত্ব: দাদাভাই নওরোজী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরোজশাহ মেহতা, দিনশ ওয়াচা)। এঁরা Prayer, Petition and Protest (3Ps) বা আবেদন-নিবেদনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
চরমপন্থী যুগ (Extremist Phase): ১৯০৫ - ১৯১৯ (নেতৃত্ব: বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিনচন্দ্র পাল — লাল-বাল-পাল এবং অরবিন্দ ঘোষ)। এঁরা স্বরাজ অর্জনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন।
গান্ধী যুগ (Gandhian Phase): ১৯১৯ - ১৯৪৭ (নেতৃত্ব: মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার প্যাটেল)। এই পর্বে কংগ্রেস একটি গণ-আন্দোলনে (Mass Movement) রূপান্তরিত হয়।
F ১৮৮৬ (কলকাতা অধিবেশন): প্রথম বাঙালি সভাপতি হিসেবে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন' কংগ্রেসে যোগ দেয়। সভাপতি ছিলেন দাদাভাই নওরোজী।
F ১৮৮৭ (মাদ্রাজ অধিবেশন): প্রথম মুসলিম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বদরুদ্দিন তৈয়বজী।
F ১৮৮৮ (এলাহাবাদ অধিবেশন): প্রথম ব্রিটিশ/ইউরোপীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন জর্জ ইউল (George Yule)।
F ১৮৯৬ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি রহমতুল্লাহ এম. সায়ানি-র উপস্থিতিতে প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্রের "বন্দে মাতরম্" গানটি গাওয়া হয় (গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
F ১৯০৬ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি দাদাভাই নওরোজী প্রথমবার কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে "স্বরাজ" (Swaraj) শব্দটি ব্যবহার করেন।
F ১৯০৭ (সুরাট অধিবেশন): রাসবিহারী ঘোষ-এর সভাপতিত্বে কংগ্রেস চরমপন্থী (Extremists) ও নরমপন্থী (Moderates)—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা "সুরাট বিভাজন" নামে পরিচিত।
F ১৯১১ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি পণ্ডিত বিষণ নারায়ণ ধর-এর উপস্থিতিতে প্রথমবার "জন গণ মন" গানটি গাওয়া হয়।
F ১৯১৬ (লখনউ অধিবেশন): অম্বিকাচরণ মজুমদার-এর সভাপতিত্বে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মিলন ঘটে এবং ঐতিহাসিক কংগ্রেস-মুসলিম লীগ চুক্তি (লখনউ চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়।
F ১৯১৭ (কলকাতা অধিবেশন): প্রথম মহিলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন অ্যানি বেসান্ত (Annie Besant)।
F ১৯২৪ (বেলগাঁও অধিবেশন): মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবনে একমাত্র এই একবারই কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
F ১৯২৫ (কানপুর অধিবেশন): প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সরোজিনী নাইডু।
F ১৯২৯ (লাহোর অধিবেশন): জওহরলাল নেহরু-র সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক "পূর্ণ স্বরাজ"-এর প্রস্তাব পাস হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৩০-কে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
F ১৯৩৮ (হরিপুরা) ও ১৯৩৯ (ত্রিপুরী): নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু'বার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে গান্ধীজীর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়াকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন (ত্রিপুরী সংকট), কিন্তু পরে পদত্যাগ করে ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন করেন।
১৯৪৬ (মিরাট অধিবেশন):ভারতের স্বাধীনতার সময় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন আচার্য জে. বি. কৃপালনী।
Quick Revision Points (১৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট) Æ INC গঠিত হয় ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইয়ে। Æ প্রথম অধিবেশনে মাত্র ৭২ জন সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে বোম্বাই প্রেসিডেন্সি থেকে সবচেয়ে বেশি ছিলেন। Æ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না কারণ তিনি কলকাতার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সে ব্যস্ত ছিলেন। Æ লর্ড কার্জন বলেছিলেন— "কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমার অন্যতম প্রধান ইচ্ছা একে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুতে সহায়তা করা"। Æ বাল গঙ্গাধর তিলক কংগ্রেসের কার্যাবলীকে "ভিক্ষাবৃত্তি" (Begging Institute) বলে কটাক্ষ করেছিলেন। Æ অশ্বিনীকুমার দত্ত কংগ্রেসের তিন দিনের বার্ষিক অধিবেশনকে "তিন দিনের তামাশা" বলেছিলেন। Æ ১৮৮৮ সালের এলাহাবাদ অধিবেশনে জর্জ ইউল-এর সভাপতিত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিলেন দরভাঙ্গার মহারাজা (যিনি ওই জায়গাটি কিনে নিয়েছিলেন)। Æ ১৯০৫ সালের বেনারস অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন গোপালকৃষ্ণ গোখলে, যেখানে স্বদেশী আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়। Æ ১৯২০ সালের বিশেষ কলকাতা অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় (সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়)। Æ ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশনে (সভাপতি: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল) প্রথমবার মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)-এর প্রস্তাব পাস হয়। Æ ১৯৩৬ সালের ফৈজপুর অধিবেশন ছিল কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন যা কোনো গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল (সভাপতি: জওহরলাল নেহরু)। · ১৯৩৯ সালের ত্রিপুরী অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বসু পদত্যাগ করার পর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সভাপতি নিযুক্ত হন। · ১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্ষিক অধিবেশন হয়নি। · লর্ড বেন্টিঙ্ক বা লর্ড রিপন নন, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের শাসক ছিলেন লর্ড ডাফরিন। · স্বাধীনতার পর মহাত্মা গান্ধী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে, তাই একে ভেঙে দেওয়া উচিত।
|
ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনসমূহ (Important Sessions)
বছর | স্থান | সভাপতি | ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিশেষ ঘটনা |
১৮৮৫ | বোম্বাই | উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন, ৭২ জন প্রতিনিধি যোগ দেন। |
১৮৮৬ | কলকাতা | দাদাভাই নওরোজী | প্রথম অ-হিন্দু এবং পার্সী সভাপতি। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কংগ্রেসে যোগ দেয়। |
১৮৮৭ | মাদ্রাজ | বদরুদ্দিন তৈয়বজী | কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি। |
১৮৮৮ | এলাহাবাদ | জর্জ ইউল (George Yule) | কংগ্রেসের প্রথম ইংরেজ/ইউরোপীয় সভাপতি। |
১৮৯৬ | কলকাতা | রহমতুল্লাহ এম. সায়ানি | প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "বন্দে মাতরম্" গানটি গাওয়া হয় (গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। |
১৯০৫ | বেনারস | গোপালকৃষ্ণ গোখলে | বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন। |
১৯০৬ | কলকাতা | দাদাভাই নওরোজী | প্রথমবার কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে "স্বরাজ" (Swaraj) শব্দটিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। |
১৯০৭ | সুরাট | রাসবিহারী ঘোষ | ঐতিহাসিক "সুরাট বিভাজন"। নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে দল ভাগ হয়ে যায়। |
১৯১১ | কলকাতা | পণ্ডিত বিষণ নারায়ণ ধর | প্রথমবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "জন গণ মন" গানটি গাওয়া হয়। |
১৯১৬ | লখনউ | অম্বিকাচরণ মজুমদার | নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের পুনর্মিলন এবং ঐতিহাসিক "লখনউ চুক্তি" (কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়। |
১৯১৭ | কলকাতা | অ্যানি বেসান্ত (Annie Besant) | কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি (আইরিশ বংশোদ্ভূত)। |
১৯২০ | নাগপুর | সি. বিজয়রাঘবাচারিয়ার | মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের (Non-Cooperation) চূড়ান্ত প্রস্তাব পাস হয়। |
১৯২৪ | বেলগাঁও | মহাত্মা গান্ধী | গান্ধীজীর জীবনের একমাত্র সভাপতিত্ব করা অধিবেশন (কর্নাটক)। |
১৯২৫ | কানপুর | সরোজিনী নাইডু | প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি। |
১৯২৯ | লাহোর | জওহরলাল নেহরু | ঐতিহাসিক "পূর্ণ স্বরাজ" (Complete Independence) প্রস্তাব পাস। ২৬ জানুয়ারি ১৯৩০-কে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত। |
১৯৩১ | করাচি | সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল | প্রথমবার মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মসূচীর প্রস্তাব গ্রহণ। গান্ধী-আরউইন চুক্তি অনুমোদন। |
১৯৩৬ | ফৈজপুর | জওহরলাল নেহরু | প্রথম অধিবেশন যা কোনো গ্রামে (Village) অনুষ্ঠিত হয়েছিল (মহারাষ্ট্র)। |
১৯৩৮ | হরিপুরা | সুভাষচন্দ্র বসু | প্রথমবার নেতাজীর সভাপতিত্ব। জাতীয় পরিকল্পনা কমিটি (National Planning Committee) গঠন (চেয়ারম্যান: জওহরলাল নেহরু)। |
১৯৩৯ | ত্রিপুরী | সুভাষচন্দ্র বসু | "ত্রিপুরী সংকট"। গান্ধীজীর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়াকে হারিয়ে নেতাজী পুনরায় জেতেন, কিন্তু পরে মতভেদের কারণে পদত্যাগ করেন এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ নতুন সভাপতি হন। |
১৯৪০-৪৫ | রামগড় | মাওলানা আবুল কালাম আজাদ | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এই দীর্ঘ সময় কোনো অধিবেশন হয়নি। তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এবং সবচেয়ে কম বয়সে (৩৫ বছর) সভাপতি থাকার রেকর্ড গড়েন। |
১৯৪৬ | মিরাট | আচার্য জে. বি. কৃপালনী | স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। |
১৯৪৮ | জয়পুর | পট্টভি সিতারামাইয়া | স্বাধীন ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক কংগ্রেস অধিবেশন। |
Exam Focus Point (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য)
Æ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম। মনে রাখবেন, তিনি কখনো কংগ্রেসের সভাপতি হননি। তিনি ১৮৮৫ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) ছিলেন।
Æ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: ১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না, কারণ একই সময়ে কলকাতায় তাঁর নিজস্ব সংগঠন 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্স'-এর দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন চলছিল।
Æ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সংক্রান্ত "সেফটি ভালভ তত্ত্ব" (Safety Valve Theory)-এর প্রবক্তা ছিলেন লালা লাজপত রায়।
Æ কংগ্রেসের মঞ্চে সবচেয়ে বেশিবার (৩ বার করে) সভাপতি হয়েছিলেন দাদাভাই নওরোজী (১৮৮৬, ১৮৯৩, ১৯০৬) এবং জওহরলাল নেহরু (১৯২৯, ১৯৩৬, ১৯৩৭)।
Æ সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (১৯৪০-৪৬) একটানা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
Æ স্বাধীন ভারতের প্রথম কংগ্রেস অধিবেশন (১৯৪৮) বসেছিল জয়পুরে, সভাপতি ছিলেন পট্টভি সিতারামাইয়া।
কংগ্রেসকে কটাক্ষ:
লর্ড ডাফরিন: কংগ্রেসকে "আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের সংগঠন" (Microscopic Minority) বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন।
লর্ড কার্জন: বলেছিলেন, "কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমার অন্যতম প্রধান ইচ্ছা একে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুতে সহায়তা করা"।
বাল গঙ্গাধর তিলক: কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন ও আবেদন নীতিকে "ভিক্ষাবৃত্তি" (Begging Institute) এবং বছরে একবার ব্যাং-এর মতো গ্যাঙর গ্যাঙ করা বলে কটাক্ষ করেন।
অশ্বিনীকুমার দত্ত: কংগ্রেসের তিন দিনের বার্ষিক সম্মেলনকে "তিন দিনের তামাশা" বলেছিলেন।
গান্ধীজীর পরামর্শ: ভারত স্বাধীন হওয়ার পর মহাত্মা গান্ধী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে, তাই এটিকে এবার ভেঙে দেওয়া উচিত (Dissolve)।
২. Competitive Exam Special Section
Previous Year Question-এর ধাঁচে গুরুত্বপূর্ণ Facts:
প্রথম গ্রামীণ অধিবেশন: ১৯৩৬ সালের ফৈজপুর অধিবেশন (মহারাষ্ট্র)। অনেকে ভুল করে হরিপুরা ভাবেন, কিন্তু হরিপুরা গ্রামীণ নয়।
জাতীয় কংগ্রেসের জনক: অফিসিয়ালি এ. ও. হিউম-কে ১৯১২ সালের বাঁকিপুর অধিবেশনে মৃত্যুর পর কংগ্রেসের জনক ঘোষণা করা হয়।
লন্ডনে ব্রিটিশ কমিটি: ১৮৮৯ সালে লন্ডনে কংগ্রেসের হয়ে জনমত গঠনের জন্য 'British Committee of Indian National Congress' তৈরি হয়, যার মুখপত্র ছিল 'India' পত্রিকা (সম্পাদক: উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন)।
কংগ্রেসের প্রথম মহিলা বক্তা: ১৮৯০ সালের কলকাতা অধিবেশনে প্রথম ভারতীয় মহিলা স্নাতক কদম্বিনী গাঙ্গুলী কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে ভাষণ দেন।
Confusing Facts (বিভ্রান্তিকর তথ্যের তুলনা):
প্রথম মহিলা সভাপতি: অ্যানি বেসান্ত (১৯১৭, কলকাতা)। তিনি ভারতীয় ছিলেন না (আইরিশ)।
প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি: সরোজিনী নাইডু (১৯২৫, কানপুর)।
প্রথম বাঙালি মহিলা সভাপতি: নেলী সেনগুপ্ত (১৯৩৩, কলকাতা)।
স্বরাজ শব্দের প্রথম ব্যবহার: ১৯০৬ সালে দাদাভাই নওরোজী কংগ্রেসের মঞ্চে প্রথম 'স্বরাজ' বলেন (এর অর্থ ছিল ডোমিনিয়ন বা স্বায়ত্তশাসন)।
পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব: ১৯২৯ সালে জওহরলাল নেহরু লাহোর অধিবেশনে 'পূর্ণ স্বরাজ' বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলেন।
ত্রিপুরী সংকটের পর সভাপতি কে হন? সুভাষচন্দ্র বসু পদত্যাগ করার পর পট্টভি সিতারামাইয়া সভাপতি হননি, অন্তর্বর্তী সভাপতি হয়েছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) — সম্পূর্ণ পরীক্ষামুখী স্টাডি মেটেরিয়াল
১. বিস্তারিত বাংলা নোট (Comprehensive Notes)
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন। ব্রিটিশ অবসরপ্রাপ্ত আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (Allan Octavian Hume)-এর উদ্যোগে এবং তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন (Lord Dufferin)-এর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে এই দলের জন্ম হয়। প্রথম দিকে এটি একটি আবেদন-নিবেদনপন্থী (নরমপন্থী) সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও, কালক্রমে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা (Foundation and Background)
প্রতিষ্ঠা দিবস: ২৮ ডিসেম্বর, ১৮৮৫।
প্রতিষ্ঠার স্থান: বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ।
নোট: প্রথমে এই অধিবেশনটি পুনে (Poona)-তে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে হঠাৎ প্লেগ (and cholera) মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করে বোম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠাতা: অবসরপ্রাপ্ত স্কটিশ আই.সি.এস (ICS) অফিসার অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume)।
প্রথম সভাপতি: বিশিষ্ট বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee)।
প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধি: ৭২ জন। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৮ জন প্রতিনিধি ছিলেন বোম্বাই প্রেসিডেন্সি থেকে।
প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইসরয়: লর্ড ডাফরিন (Lord Dufferin) (১৮৮৪-১৮৮৮)।
কংগ্রেসের পূর্বসূরী নাম: হিউম প্রথমে এই সংগঠনের নাম রেখেছিলেন 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ইউনিয়ন' (Indian National Union)। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে দাদাভাই নওরোজী-র পরামর্শে 'ইউনিয়ন' শব্দটি বদলে 'কংগ্রেস' (Congress) রাখা হয়। (কংগ্রেস শব্দটি আমেরিকার সংবিধান থেকে নেওয়া, যার অর্থ 'জনসমাবেশ')।
সেফটি ভালভ তত্ত্ব (Safety Valve Theory)
কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। লালা লাজপত রায়, রজনী পাম দত্ত প্রমুখের মতে, ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের মতো আর কোনো গণ-বিদ্রোহ যাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন এবং অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম মিলে ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমনের একটি 'নিরাপত্তা বলয়' বা "সেফটি ভালভ" হিসেবে কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। লালা লাজপত রায় ১৯১৬ সালে তাঁর 'ইয়ং ইন্ডিয়া' (Young India) পত্রিকায় এই তত্ত্বটি তুলে ধরেন।
কংগ্রেসের তিনটি পর্যায় (Three Phases of INC)
কংগ্রেসের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা যায়:
নরমপন্থী যুগ (Moderate Phase): ১৮৮৫ - ১৯০৫ (নেতৃত্ব: দাদাভাই নওরোজী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরোজশাহ মেহতা, দিনশ ওয়াচা)। এঁরা Prayer, Petition and Protest (3Ps) বা আবেদন-নিবেদনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
চরমপন্থী যুগ (Extremist Phase): ১৯০৫ - ১৯১৯ (নেতৃত্ব: বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিনচন্দ্র পাল — লাল-বাল-পাল এবং অরবিন্দ ঘোষ)। এঁরা স্বরাজ অর্জনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন।
গান্ধী যুগ (Gandhian Phase): ১৯১৯ - ১৯৪৭ (নেতৃত্ব: মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার প্যাটেল)। এই পর্বে কংগ্রেস একটি গণ-আন্দোলনে (Mass Movement) রূপান্তরিত হয়।
F ১৮৮৬ (কলকাতা অধিবেশন): প্রথম বাঙালি সভাপতি হিসেবে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন' কংগ্রেসে যোগ দেয়। সভাপতি ছিলেন দাদাভাই নওরোজী।
F ১৮৮৭ (মাদ্রাজ অধিবেশন): প্রথম মুসলিম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বদরুদ্দিন তৈয়বজী।
F ১৮৮৮ (এলাহাবাদ অধিবেশন): প্রথম ব্রিটিশ/ইউরোপীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন জর্জ ইউল (George Yule)।
F ১৮৯৬ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি রহমতুল্লাহ এম. সায়ানি-র উপস্থিতিতে প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্রের "বন্দে মাতরম্" গানটি গাওয়া হয় (গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
F ১৯০৬ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি দাদাভাই নওরোজী প্রথমবার কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে "স্বরাজ" (Swaraj) শব্দটি ব্যবহার করেন।
F ১৯০৭ (সুরাট অধিবেশন): রাসবিহারী ঘোষ-এর সভাপতিত্বে কংগ্রেস চরমপন্থী (Extremists) ও নরমপন্থী (Moderates)—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা "সুরাট বিভাজন" নামে পরিচিত।
F ১৯১১ (কলকাতা অধিবেশন): সভাপতি পণ্ডিত বিষণ নারায়ণ ধর-এর উপস্থিতিতে প্রথমবার "জন গণ মন" গানটি গাওয়া হয়।
F ১৯১৬ (লখনউ অধিবেশন): অম্বিকাচরণ মজুমদার-এর সভাপতিত্বে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মিলন ঘটে এবং ঐতিহাসিক কংগ্রেস-মুসলিম লীগ চুক্তি (লখনউ চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়।
F ১৯১৭ (কলকাতা অধিবেশন): প্রথম মহিলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন অ্যানি বেসান্ত (Annie Besant)।
F ১৯২৪ (বেলগাঁও অধিবেশন): মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবনে একমাত্র এই একবারই কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
F ১৯২৫ (কানপুর অধিবেশন): প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সরোজিনী নাইডু।
F ১৯২৯ (লাহোর অধিবেশন): জওহরলাল নেহরু-র সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক "পূর্ণ স্বরাজ"-এর প্রস্তাব পাস হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৩০-কে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
F ১৯৩৮ (হরিপুরা) ও ১৯৩৯ (ত্রিপুরী): নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু'বার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে গান্ধীজীর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়াকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন (ত্রিপুরী সংকট), কিন্তু পরে পদত্যাগ করে ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন করেন।
১৯৪৬ (মিরাট অধিবেশন):ভারতের স্বাধীনতার সময় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন আচার্য জে. বি. কৃপালনী।
Quick Revision Points (১৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট) Æ INC গঠিত হয় ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইয়ে। Æ প্রথম অধিবেশনে মাত্র ৭২ জন সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে বোম্বাই প্রেসিডেন্সি থেকে সবচেয়ে বেশি ছিলেন। Æ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না কারণ তিনি কলকাতার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সে ব্যস্ত ছিলেন। Æ লর্ড কার্জন বলেছিলেন— "কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমার অন্যতম প্রধান ইচ্ছা একে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুতে সহায়তা করা"। Æ বাল গঙ্গাধর তিলক কংগ্রেসের কার্যাবলীকে "ভিক্ষাবৃত্তি" (Begging Institute) বলে কটাক্ষ করেছিলেন। Æ অশ্বিনীকুমার দত্ত কংগ্রেসের তিন দিনের বার্ষিক অধিবেশনকে "তিন দিনের তামাশা" বলেছিলেন। Æ ১৮৮৮ সালের এলাহাবাদ অধিবেশনে জর্জ ইউল-এর সভাপতিত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিলেন দরভাঙ্গার মহারাজা (যিনি ওই জায়গাটি কিনে নিয়েছিলেন)। Æ ১৯০৫ সালের বেনারস অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন গোপালকৃষ্ণ গোখলে, যেখানে স্বদেশী আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়। Æ ১৯২০ সালের বিশেষ কলকাতা অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় (সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়)। Æ ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশনে (সভাপতি: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল) প্রথমবার মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)-এর প্রস্তাব পাস হয়। Æ ১৯৩৬ সালের ফৈজপুর অধিবেশন ছিল কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন যা কোনো গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল (সভাপতি: জওহরলাল নেহরু)। · ১৯৩৯ সালের ত্রিপুরী অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বসু পদত্যাগ করার পর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সভাপতি নিযুক্ত হন। · ১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্ষিক অধিবেশন হয়নি। · লর্ড বেন্টিঙ্ক বা লর্ড রিপন নন, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের শাসক ছিলেন লর্ড ডাফরিন। · স্বাধীনতার পর মহাত্মা গান্ধী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে, তাই একে ভেঙে দেওয়া উচিত।
|
ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনসমূহ (Important Sessions)
বছর | স্থান | সভাপতি | ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিশেষ ঘটনা |
১৮৮৫ | বোম্বাই | উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন, ৭২ জন প্রতিনিধি যোগ দেন। |
১৮৮৬ | কলকাতা | দাদাভাই নওরোজী | প্রথম অ-হিন্দু এবং পার্সী সভাপতি। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কংগ্রেসে যোগ দেয়। |
১৮৮৭ | মাদ্রাজ | বদরুদ্দিন তৈয়বজী | কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি। |
১৮৮৮ | এলাহাবাদ | জর্জ ইউল (George Yule) | কংগ্রেসের প্রথম ইংরেজ/ইউরোপীয় সভাপতি। |
১৮৯৬ | কলকাতা | রহমতুল্লাহ এম. সায়ানি | প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "বন্দে মাতরম্" গানটি গাওয়া হয় (গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। |
১৯০৫ | বেনারস | গোপালকৃষ্ণ গোখলে | বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন। |
১৯০৬ | কলকাতা | দাদাভাই নওরোজী | প্রথমবার কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে "স্বরাজ" (Swaraj) শব্দটিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। |
১৯০৭ | সুরাট | রাসবিহারী ঘোষ | ঐতিহাসিক "সুরাট বিভাজন"। নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে দল ভাগ হয়ে যায়। |
১৯১১ | কলকাতা | পণ্ডিত বিষণ নারায়ণ ধর | প্রথমবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "জন গণ মন" গানটি গাওয়া হয়। |
১৯১৬ | লখনউ | অম্বিকাচরণ মজুমদার | নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের পুনর্মিলন এবং ঐতিহাসিক "লখনউ চুক্তি" (কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়। |
১৯১৭ | কলকাতা | অ্যানি বেসান্ত (Annie Besant) | কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি (আইরিশ বংশোদ্ভূত)। |
১৯২০ | নাগপুর | সি. বিজয়রাঘবাচারিয়ার | মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের (Non-Cooperation) চূড়ান্ত প্রস্তাব পাস হয়। |
১৯২৪ | বেলগাঁও | মহাত্মা গান্ধী | গান্ধীজীর জীবনের একমাত্র সভাপতিত্ব করা অধিবেশন (কর্নাটক)। |
১৯২৫ | কানপুর | সরোজিনী নাইডু | প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি। |
১৯২৯ | লাহোর | জওহরলাল নেহরু | ঐতিহাসিক "পূর্ণ স্বরাজ" (Complete Independence) প্রস্তাব পাস। ২৬ জানুয়ারি ১৯৩০-কে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত। |
১৯৩১ | করাচি | সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল | প্রথমবার মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মসূচীর প্রস্তাব গ্রহণ। গান্ধী-আরউইন চুক্তি অনুমোদন। |
১৯৩৬ | ফৈজপুর | জওহরলাল নেহরু | প্রথম অধিবেশন যা কোনো গ্রামে (Village) অনুষ্ঠিত হয়েছিল (মহারাষ্ট্র)। |
১৯৩৮ | হরিপুরা | সুভাষচন্দ্র বসু | প্রথমবার নেতাজীর সভাপতিত্ব। জাতীয় পরিকল্পনা কমিটি (National Planning Committee) গঠন (চেয়ারম্যান: জওহরলাল নেহরু)। |
১৯৩৯ | ত্রিপুরী | সুভাষচন্দ্র বসু | "ত্রিপুরী সংকট"। গান্ধীজীর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়াকে হারিয়ে নেতাজী পুনরায় জেতেন, কিন্তু পরে মতভেদের কারণে পদত্যাগ করেন এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ নতুন সভাপতি হন। |
১৯৪০-৪৫ | রামগড় | মাওলানা আবুল কালাম আজাদ | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এই দীর্ঘ সময় কোনো অধিবেশন হয়নি। তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এবং সবচেয়ে কম বয়সে (৩৫ বছর) সভাপতি থাকার রেকর্ড গড়েন। |
১৯৪৬ | মিরাট | আচার্য জে. বি. কৃপালনী | স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। |
১৯৪৮ | জয়পুর | পট্টভি সিতারামাইয়া | স্বাধীন ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক কংগ্রেস অধিবেশন। |
Exam Focus Point (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য)
Æ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম। মনে রাখবেন, তিনি কখনো কংগ্রেসের সভাপতি হননি। তিনি ১৮৮৫ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) ছিলেন।
Æ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: ১৮৮৫ সালের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না, কারণ একই সময়ে কলকাতায় তাঁর নিজস্ব সংগঠন 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্স'-এর দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন চলছিল।
Æ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সংক্রান্ত "সেফটি ভালভ তত্ত্ব" (Safety Valve Theory)-এর প্রবক্তা ছিলেন লালা লাজপত রায়।
Æ কংগ্রেসের মঞ্চে সবচেয়ে বেশিবার (৩ বার করে) সভাপতি হয়েছিলেন দাদাভাই নওরোজী (১৮৮৬, ১৮৯৩, ১৯০৬) এবং জওহরলাল নেহরু (১৯২৯, ১৯৩৬, ১৯৩৭)।
Æ সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (১৯৪০-৪৬) একটানা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
Æ স্বাধীন ভারতের প্রথম কংগ্রেস অধিবেশন (১৯৪৮) বসেছিল জয়পুরে, সভাপতি ছিলেন পট্টভি সিতারামাইয়া।
কংগ্রেসকে কটাক্ষ:
লর্ড ডাফরিন: কংগ্রেসকে "আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের সংগঠন" (Microscopic Minority) বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন।
লর্ড কার্জন: বলেছিলেন, "কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমার অন্যতম প্রধান ইচ্ছা একে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুতে সহায়তা করা"।
বাল গঙ্গাধর তিলক: কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন ও আবেদন নীতিকে "ভিক্ষাবৃত্তি" (Begging Institute) এবং বছরে একবার ব্যাং-এর মতো গ্যাঙর গ্যাঙ করা বলে কটাক্ষ করেন।
অশ্বিনীকুমার দত্ত: কংগ্রেসের তিন দিনের বার্ষিক সম্মেলনকে "তিন দিনের তামাশা" বলেছিলেন।
গান্ধীজীর পরামর্শ: ভারত স্বাধীন হওয়ার পর মহাত্মা গান্ধী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে, তাই এটিকে এবার ভেঙে দেওয়া উচিত (Dissolve)।
২. Competitive Exam Special Section
Previous Year Question-এর ধাঁচে গুরুত্বপূর্ণ Facts:
প্রথম গ্রামীণ অধিবেশন: ১৯৩৬ সালের ফৈজপুর অধিবেশন (মহারাষ্ট্র)। অনেকে ভুল করে হরিপুরা ভাবেন, কিন্তু হরিপুরা গ্রামীণ নয়।
জাতীয় কংগ্রেসের জনক: অফিসিয়ালি এ. ও. হিউম-কে ১৯১২ সালের বাঁকিপুর অধিবেশনে মৃত্যুর পর কংগ্রেসের জনক ঘোষণা করা হয়।
লন্ডনে ব্রিটিশ কমিটি: ১৮৮৯ সালে লন্ডনে কংগ্রেসের হয়ে জনমত গঠনের জন্য 'British Committee of Indian National Congress' তৈরি হয়, যার মুখপত্র ছিল 'India' পত্রিকা (সম্পাদক: উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন)।
কংগ্রেসের প্রথম মহিলা বক্তা: ১৮৯০ সালের কলকাতা অধিবেশনে প্রথম ভারতীয় মহিলা স্নাতক কদম্বিনী গাঙ্গুলী কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে ভাষণ দেন।
Confusing Facts (বিভ্রান্তিকর তথ্যের তুলনা):
প্রথম মহিলা সভাপতি: অ্যানি বেসান্ত (১৯১৭, কলকাতা)। তিনি ভারতীয় ছিলেন না (আইরিশ)।
প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি: সরোজিনী নাইডু (১৯২৫, কানপুর)।
প্রথম বাঙালি মহিলা সভাপতি: নেলী সেনগুপ্ত (১৯৩৩, কলকাতা)।
স্বরাজ শব্দের প্রথম ব্যবহার: ১৯০৬ সালে দাদাভাই নওরোজী কংগ্রেসের মঞ্চে প্রথম 'স্বরাজ' বলেন (এর অর্থ ছিল ডোমিনিয়ন বা স্বায়ত্তশাসন)।
পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব: ১৯২৯ সালে জওহরলাল নেহরু লাহোর অধিবেশনে 'পূর্ণ স্বরাজ' বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলেন।
ত্রিপুরী সংকটের পর সভাপতি কে হন? সুভাষচন্দ্র বসু পদত্যাগ করার পর পট্টভি সিতারামাইয়া সভাপতি হননি, অন্তর্বর্তী সভাপতি হয়েছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।