আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) চলাকালীন ব্রিটিশ বিরোধী ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম এক চরম ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। যুদ্ধের সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার পর পর দুটি প্রস্তাব দেয়:
আগস্ট অফার (১৯৪০): যুদ্ধকালীন অবস্থায় ভারতীয়দের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো কর্তৃক প্রদত্ত নীতিগত প্রস্তাব।
ক্রিপস মিশন (১৯৪২): জাপানের ভারত আক্রমণের হুমকির মুখে ভারতীয় নেতাদের পূর্ণ সমর্থন পেতে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবাবলী।
এই উভয় প্রস্তাবই ভারতীয়দের মূল দাবি "পূর্ণ স্বাধীনতা" পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৪২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের শেষ ও বৃহত্তম সর্বভারতীয় আন্দোলন — ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement) বা "আগস্ট বিপ্লব" সূচিত হয়।
১. আগস্ট অফার (August Offer - 1940)
(A) পটভূমি ও ঘোষণা
পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪০ সালে ফ্রান্সের পতন ঘটে এবং ব্রিটেনের ওপর জার্মানির আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দেয়। এই সংকটময় সময়ে ভারতের সমর্থন আদায়ে ব্রিটিশ সরকার এগিয়ে আসে।
ঘোষণা: ⭐ ৮ই আগস্ট, ১৯৪০ সালে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো (Lord Linlithgow) এই প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
(B) প্রধান প্রস্তাবাবলী
যুদ্ধ শেষে ভারতকে 'ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস' (Dominion Status) প্রদান করা হবে।
ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের (Executive Council) সম্প্রসারণ করে আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একটি 'যুদ্ধ উপদেষ্টা পরিষদ' (War Advisory Council) গঠন করা হবে।
ভারতের নতুন সংবিধান রচনার জন্য মুখ্যত ভারতীয়দের নিয়ে একটি 'সংবিধান সভা' গঠন করা হবে।
সংখ্যালঘু (মুসলিম) সম্প্রদায়ের সম্মতি ছাড়া কোনো সংবিধান গ্রহণ করা হবে না।
(C) প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ
কংগ্রেস ও লীগের প্রত্যাখ্যান: কংগ্রেস সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে এবং মুসলিম লীগ পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ (Individual Satyagraha - 1940): আগস্ট অফার প্রত্যাখ্যান করে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে গান্ধীজি ১৯৪০ সালের অক্টোবরে সীমিত পরিসরে 'ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ' শুরু করেন।
⭐ ১ম সত্যগ্রহী: আচার্য বিনোবা ভাভে (Vinoba Bhave) (১৭ই অক্টোবর, ১৯৪০)।
⭐ ২য় সত্যগ্রহী: পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু।
এটি "দিল্লি চলো সত্যগ্রহ" নামেও পরিচিত ছিল।
২. ক্রিপস মিশন (Cripps Mission - 1942)
(A) গঠন ও আগমন
পটভূমি: ১৯৪২ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের দ্রুত অগ্রগতি এবং রেঙ্গুন (মিয়ানমার) দখলের ফলে ভারতে জাপানি আক্রমণের সরাসরি হুমকি দেখা দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ক্রিপস মিশন ভারতে পাঠান।
প্রধান: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (Sir Stafford Cripps)।
⭐ ভারতে আগমন: ২২শে মার্চ, ১৯৪২।
(B) প্রস্তাবাবলী
যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের মর্যাদা দেওয়া হবে।
যুদ্ধ শেষে ভারতীয়দের নিয়ে একটি সংবিধান রচনার জন্য 'সংবিধান সভা' (Constituent Assembly) গঠিত হবে।
বিচ্ছেদের অধিকার (Local Option): কোনো প্রদেশ যদি নতুন সংবিধান গ্রহণ করতে না চায়, তবে তাদের নিজেদের জন্য পৃথক সংবিধান তৈরি করার এবং ব্রিটিশদের সাথে পৃথক চুক্তি করার অধিকার থাকবে (পরোক্ষভাবে পাকিস্তান গঠনের ইঙ্গিত)।
যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব থাকবে ব্রিটেনের হাতে।
(C) প্রতিক্রিয়া
⭐ গান্ধীজির বিখ্যাত মন্তব্য: গান্ধীজি ক্রিপস প্রস্তাবকে "Post-dated Cheque on a Failing Bank" (দেউলিয়া হতে বসা ব্যাংকের ভবিষ্যতের তারিখ দেওয়া চেক) বলে অভিহিত করেন।
প্রত্যাখ্যানের কারণ: ক্রিপস মিশনেও তাৎক্ষণিক স্বাধীনতার কোনো কথা ছিল না এবং 'বিচ্ছেদের অধিকার' ভারতের অখণ্ডতাকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মিশনটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে ২৪শে এপ্রিল, ১৯৪২ সালে ফিরে যায়।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement - 1942)
ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা, জাপানি আক্রমণের আশঙ্কা এবং তীব্র মূল্যবৃদ্ধির ফলে গান্ধীজি ব্রিটিশদের অবিলম্বে ভারত ত্যাগ করার আহ্বান জানান।
(A) প্রস্তাব পাস ও ঐতিহাসিক মহাসভা
ওয়ার্ধা প্রস্তাব (১৪ই জুলাই, ১৯৪২): সিডব্লিউসি (CWC) ওয়ার্ধা বৈঠকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রস্তাব গ্রহণ করে।
বম্বে অধিবেশন (৮ই আগস্ট, ১৯৪২): বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে (Gowalia Tank Maidan) সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (AICC) অধিবেশনে "ভারত ছাড়ো" প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। (সভাপতি ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ)।
⭐ ঐতিহাসিক মন্ত্র (Slogan): এই সভা থেকেই মহাত্মা গান্ধী তাঁর বিখ্যাত ডাক দেন — "Do or Die" (করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে / করব অথবা মরব)।
'Quit India' উক্তিটির স্রষ্টা: ইউসুফ মেহের আলী (Yusuf Meherally)।
(B) অপারেশন জিরো আওয়ার ও নেতৃত্বের অভাব (Operation Zero Hour)
⭐ ৯ই আগস্ট, ১৯৪২ (ভোরবেলা): আন্দোলন শুরু হওয়ার পূর্বেই ব্রিটিশ সরকার 'Operation Zero Hour' চালায় এবং মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, সরোজিনী নাইডু, সর্দার প্যাটেল সহ সমস্ত প্রথম সারির নেতাক গ্রেফতার করে।
বন্দী স্থান: গান্ধীজি ও সরোজিনী নাইডুকে পুনের আগা খান প্যালেসে (Aga Khan Palace) এবং নেহেরুকে আহমাদনগর দুর্গে বন্দী রাখা হয়।
নেতৃত্বহীন গণঅভ্যুত্থান: প্রধান নেতারা গ্রেফতার হওয়ায় আন্দোলনটি দ্রুত একটি স্বতঃস্ফূর্ত, সহিংস ও নেতৃত্বহীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তরুণ ও দ্বিতীয় সারির নেতারা আন্দোলনের হাল ধরেন।
(C) দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব ও গোপন বেতার কেন্দ্র
নেতৃবৃন্দ: ⭐ জয়প্রকাশ নারায়ণ (JP), রামমনোহর লোহিয়া, অরুণা আসফ আলী, সুচেতা কৃপালিনী, ওষা মেহতা।
অরুণা আসফ আলী: ৯ই আগস্ট বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। (তাঁকে "Heroine of 1942 Movement" বলা হয়)।
গোপন কংগ্রেস রেডিও (Secret Congress Radio): বম্বেতে উষা মেহতা (Usha Mehta) এবং রামমনোহর লোহিয়া গোপন রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে আন্দোলনের সংবাদ প্রচার করতেন।
জয়প্রকাশ নারায়ণ: হাজারিবাগ জেল থেকে পালিয়ে 'আজাদ দস্তা' (Azad Dasta) নামক গেরিলা বাহিনী গঠন করেন।
(D) সমান্তরাল সরকার গঠন (Parallel Governments) ⭐
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিকল্প স্বাধীন 'সমান্তরাল সরকার' প্রতিষ্ঠা:
বালিয়া (উত্তর প্রদেশ): ⭐ চিত্তু পাণ্ডে (Chittu Pandey)-র নেতৃত্বে ভারতের ১ম সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়।
তামলুক (মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ): ⭐ 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' গঠিত হয় (১৭ই ডিসেম্বর ১৯৪২ - ১৯৪৪)।
সর্বাধিনায়ক: সতীশচন্দ্র সামন্ত।
উইং: 'বিদ্যুৎ বাহিনী' (সশস্ত্র বাহিনী)।
শহিদ: ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা ⭐ মাতঙ্গিনী হাজরা (গান্ধী বুড়ি) ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে তমলুক থানা অভিযানে পুলিশের গুলিতে তেরঙা পতাকা হাতে শহিদ হন।
সাতারা (মহারাষ্ট্র): ⭐ 'প্রতি সরকার' (Prati Sarkar) — নাথ পাটিল ও ওয়াই বি চভানের নেতৃত্বে গঠিত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমান্তরাল সরকার (১৯৪৫ পর্যন্ত স্থায়ী)।
তালচের (ওড়িশা): সশস্ত্র সমান্তরাল সরকার।
(E) আন্দোলনের প্রভাব ও অবসান
আন্দোলন দমনে ব্রিটিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি, গ্রাম জ্বালানো এবং বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে।
মুসলিম লীগ ও ড. বি আর আম্বেদকর এই আন্দোলনে অংশ নেননি; হিন্দু মহাসভা ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (CPI) আন্দোলনের বিরোধিতা করে।
তা সত্ত্বেও এই আন্দোলন প্রমাণ করে দেয় যে, ভারতীয়দের অনিচ্ছায় তাদের ওপর ব্রিটিশ শাসন আর বেশিদিন চাপিয়ে রাখা অসম্ভব।
Table: সমান্তরাল সরকারসমূহ (Parallel Governments - 1942)
স্থান / অঞ্চল | সরকার / উদ্যোগের নাম | প্রধান নেতৃত্ব | বিশেষত্ব / বৈশিষ্ট্য |
বালিয়া (UP) | জাতীয় সরকার | চিত্তু পাণ্ডে | ভারতের ১ম গঠিত সমান্তরাল সরকার |
তমলুক (পশ্চিমবঙ্গ) | তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার | সতীশচন্দ্র সামন্ত, সুশীল ধাড়া | 'বিদ্যুৎ বাহিনী' গঠন; মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগ |
সাতারা (মহারাষ্ট্র) | প্রতি সরকার (Prati Sarkar) | নাথ পাটিল, ওয়াই. বি. চভান | সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমান্তরাল সরকার (1942-45) |
তালচের (ওড়িশা) | জাতীয় সরকার | স্থানীয় জনতা | সবচেয়ে বিধ্বংসী কৃষক বিদ্রোহ রূপ |
Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ আগস্ট অফার কে ঘোষণা করেন? ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো (৮ই আগস্ট, ১৯৪০)।
⭐ প্রথম 'ব্যক্তিগত সত্যগ্রহী' (Individual Satyagrah) কে ছিলেন? আচার্য বিনোবা ভাভে (২য়: জওহরলাল নেহেরু)।
⭐ ক্রিপস মিশন ভারত ত্যাগ করে কবে? ২৪শে এপ্রিল, ১৯৪২ (ভারতে এসেছিল ২২শে মার্চ, ১৯৪২)।
⭐ "Post-dated cheque on a crashing bank" — ক্রিপস মিশনকে কে এই আখ্যা দেন? মহাত্মা গান্ধী।
⭐ "Do or Die" (করব অথবা মরব) স্লোগানটি গান্ধীজি কোন আন্দোলনে দেন? ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)।
⭐ 'Quit India' উক্তিটি প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন? ইউসুফ মেহের আলী (Yusuf Meherally)।
⭐ অপারেশন জিরো আওয়ার (Operation Zero Hour) কিসের সাথে যুক্ত? ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতাদের ৯ই আগস্ট ভোরের মধ্যে গ্রেফতার করার ব্রিটিশ অভিযান।
⭐ গোপন কংগ্রেস রেডিও স্টেশনের সাথে কে যুক্ত ছিলেন? উষা মেহতা (Usha Mehta)।
⭐ 'গান্ধী বুড়ি' নামে কে পরিচিত? মাতঙ্গিনী হাজরা (তমলুক, মেদিনীপুর)।
⭐ ১৯৪২ সালের আন্দোলনের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন? লর্ড লিনলিথগো (সেনাপ্রধান ছিলেন লর্ড ওয়াভেল)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: 'Quit India' এবং 'Do or Die' উভয় স্লোগানই গান্ধীজি তৈরি করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: "Do or Die" স্লোগানটি গান্ধীজি দিয়েছিলেন, কিন্তু "Quit India" (ভারত ছাড়ো) এবং "Simon Go Back" শব্দবন্ধটি প্রথম তৈরি করেছিলেন ইউসুফ মেহের আলী।
ভুলধারণা 2: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সবাই সমর্থন দিয়েছিল।
সঠিক তথ্য: মুসলিম লীগ, হিন্দু মহাসভা এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (CPI) এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি বা বিরোধিতা করেছিল।
ভুলধারণা 3: ক্রিপস মিশন ও ক্যাবিনেট মিশন একই বছর ভারতে আসে।
সঠিক তথ্য: ক্রিপস মিশন আসে ১৯৪২ সালে (স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস), আর ক্যাবিনেট মিশন আসে ১৯৪৬ সালে।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
আগস্ট অফার: ৮ আগস্ট ১৯৪০ | ভাইসরয়: লর্ড লিনলিথগো | ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের প্রস্তাব।
ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ: ১৯৪০ | ১ম: বিনোবা ভাভে, ২য়: জওহরলাল নেহেরু | "দিল্লি চলো"।
ক্রিপস মিশন: মার্চ ১৯৪২ | স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস | "Post-dated Cheque" (গান্ধীজি)।
ভারত ছাড়ো প্রস্তাব: ৮ই আগস্ট ১৯৪২ | বম্বে (গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক) | স্লোগান: "Do or Die"।
অপারেশন জিরো আওয়ার: ৯ই আগস্ট ১৯৪২ | প্রথম সারির সব নেতা গ্রেফতার।
বন্দী কেন্দ্র: গান্ধীজি ➔ আগা খান প্যালেস (পুনে); নেহেরু ➔ আহমাদনগর দুর্গ।
গোপন রেডিও: উষা মেহতা।
সমান্তরাল সরকার: বালিয়া (চিত্তু পাণ্ডে), তমলুক (সতীশ সামন্ত), সাতারা (নাথ পাটিল - দীর্ঘতম)।
তমলুক শহিদ: মাতঙ্গিনী হাজরা (২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২)।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) চলাকালীন ব্রিটিশ বিরোধী ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম এক চরম ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। যুদ্ধের সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার পর পর দুটি প্রস্তাব দেয়:
আগস্ট অফার (১৯৪০): যুদ্ধকালীন অবস্থায় ভারতীয়দের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো কর্তৃক প্রদত্ত নীতিগত প্রস্তাব।
ক্রিপস মিশন (১৯৪২): জাপানের ভারত আক্রমণের হুমকির মুখে ভারতীয় নেতাদের পূর্ণ সমর্থন পেতে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবাবলী।
এই উভয় প্রস্তাবই ভারতীয়দের মূল দাবি "পূর্ণ স্বাধীনতা" পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৪২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের শেষ ও বৃহত্তম সর্বভারতীয় আন্দোলন — ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement) বা "আগস্ট বিপ্লব" সূচিত হয়।
১. আগস্ট অফার (August Offer - 1940)
(A) পটভূমি ও ঘোষণা
পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪০ সালে ফ্রান্সের পতন ঘটে এবং ব্রিটেনের ওপর জার্মানির আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দেয়। এই সংকটময় সময়ে ভারতের সমর্থন আদায়ে ব্রিটিশ সরকার এগিয়ে আসে।
ঘোষণা: ⭐ ৮ই আগস্ট, ১৯৪০ সালে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো (Lord Linlithgow) এই প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
(B) প্রধান প্রস্তাবাবলী
যুদ্ধ শেষে ভারতকে 'ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস' (Dominion Status) প্রদান করা হবে।
ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের (Executive Council) সম্প্রসারণ করে আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একটি 'যুদ্ধ উপদেষ্টা পরিষদ' (War Advisory Council) গঠন করা হবে।
ভারতের নতুন সংবিধান রচনার জন্য মুখ্যত ভারতীয়দের নিয়ে একটি 'সংবিধান সভা' গঠন করা হবে।
সংখ্যালঘু (মুসলিম) সম্প্রদায়ের সম্মতি ছাড়া কোনো সংবিধান গ্রহণ করা হবে না।
(C) প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ
কংগ্রেস ও লীগের প্রত্যাখ্যান: কংগ্রেস সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে এবং মুসলিম লীগ পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ (Individual Satyagraha - 1940): আগস্ট অফার প্রত্যাখ্যান করে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে গান্ধীজি ১৯৪০ সালের অক্টোবরে সীমিত পরিসরে 'ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ' শুরু করেন।
⭐ ১ম সত্যগ্রহী: আচার্য বিনোবা ভাভে (Vinoba Bhave) (১৭ই অক্টোবর, ১৯৪০)।
⭐ ২য় সত্যগ্রহী: পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু।
এটি "দিল্লি চলো সত্যগ্রহ" নামেও পরিচিত ছিল।
২. ক্রিপস মিশন (Cripps Mission - 1942)
(A) গঠন ও আগমন
পটভূমি: ১৯৪২ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের দ্রুত অগ্রগতি এবং রেঙ্গুন (মিয়ানমার) দখলের ফলে ভারতে জাপানি আক্রমণের সরাসরি হুমকি দেখা দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ক্রিপস মিশন ভারতে পাঠান।
প্রধান: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (Sir Stafford Cripps)।
⭐ ভারতে আগমন: ২২শে মার্চ, ১৯৪২।
(B) প্রস্তাবাবলী
যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের মর্যাদা দেওয়া হবে।
যুদ্ধ শেষে ভারতীয়দের নিয়ে একটি সংবিধান রচনার জন্য 'সংবিধান সভা' (Constituent Assembly) গঠিত হবে।
বিচ্ছেদের অধিকার (Local Option): কোনো প্রদেশ যদি নতুন সংবিধান গ্রহণ করতে না চায়, তবে তাদের নিজেদের জন্য পৃথক সংবিধান তৈরি করার এবং ব্রিটিশদের সাথে পৃথক চুক্তি করার অধিকার থাকবে (পরোক্ষভাবে পাকিস্তান গঠনের ইঙ্গিত)।
যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব থাকবে ব্রিটেনের হাতে।
(C) প্রতিক্রিয়া
⭐ গান্ধীজির বিখ্যাত মন্তব্য: গান্ধীজি ক্রিপস প্রস্তাবকে "Post-dated Cheque on a Failing Bank" (দেউলিয়া হতে বসা ব্যাংকের ভবিষ্যতের তারিখ দেওয়া চেক) বলে অভিহিত করেন।
প্রত্যাখ্যানের কারণ: ক্রিপস মিশনেও তাৎক্ষণিক স্বাধীনতার কোনো কথা ছিল না এবং 'বিচ্ছেদের অধিকার' ভারতের অখণ্ডতাকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মিশনটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে ২৪শে এপ্রিল, ১৯৪২ সালে ফিরে যায়।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement - 1942)
ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা, জাপানি আক্রমণের আশঙ্কা এবং তীব্র মূল্যবৃদ্ধির ফলে গান্ধীজি ব্রিটিশদের অবিলম্বে ভারত ত্যাগ করার আহ্বান জানান।
(A) প্রস্তাব পাস ও ঐতিহাসিক মহাসভা
ওয়ার্ধা প্রস্তাব (১৪ই জুলাই, ১৯৪২): সিডব্লিউসি (CWC) ওয়ার্ধা বৈঠকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রস্তাব গ্রহণ করে।
বম্বে অধিবেশন (৮ই আগস্ট, ১৯৪২): বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে (Gowalia Tank Maidan) সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (AICC) অধিবেশনে "ভারত ছাড়ো" প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। (সভাপতি ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ)।
⭐ ঐতিহাসিক মন্ত্র (Slogan): এই সভা থেকেই মহাত্মা গান্ধী তাঁর বিখ্যাত ডাক দেন — "Do or Die" (করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে / করব অথবা মরব)।
'Quit India' উক্তিটির স্রষ্টা: ইউসুফ মেহের আলী (Yusuf Meherally)।
(B) অপারেশন জিরো আওয়ার ও নেতৃত্বের অভাব (Operation Zero Hour)
⭐ ৯ই আগস্ট, ১৯৪২ (ভোরবেলা): আন্দোলন শুরু হওয়ার পূর্বেই ব্রিটিশ সরকার 'Operation Zero Hour' চালায় এবং মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, সরোজিনী নাইডু, সর্দার প্যাটেল সহ সমস্ত প্রথম সারির নেতাক গ্রেফতার করে।
বন্দী স্থান: গান্ধীজি ও সরোজিনী নাইডুকে পুনের আগা খান প্যালেসে (Aga Khan Palace) এবং নেহেরুকে আহমাদনগর দুর্গে বন্দী রাখা হয়।
নেতৃত্বহীন গণঅভ্যুত্থান: প্রধান নেতারা গ্রেফতার হওয়ায় আন্দোলনটি দ্রুত একটি স্বতঃস্ফূর্ত, সহিংস ও নেতৃত্বহীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তরুণ ও দ্বিতীয় সারির নেতারা আন্দোলনের হাল ধরেন।
(C) দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব ও গোপন বেতার কেন্দ্র
নেতৃবৃন্দ: ⭐ জয়প্রকাশ নারায়ণ (JP), রামমনোহর লোহিয়া, অরুণা আসফ আলী, সুচেতা কৃপালিনী, ওষা মেহতা।
অরুণা আসফ আলী: ৯ই আগস্ট বম্বের গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। (তাঁকে "Heroine of 1942 Movement" বলা হয়)।
গোপন কংগ্রেস রেডিও (Secret Congress Radio): বম্বেতে উষা মেহতা (Usha Mehta) এবং রামমনোহর লোহিয়া গোপন রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে আন্দোলনের সংবাদ প্রচার করতেন।
জয়প্রকাশ নারায়ণ: হাজারিবাগ জেল থেকে পালিয়ে 'আজাদ দস্তা' (Azad Dasta) নামক গেরিলা বাহিনী গঠন করেন।
(D) সমান্তরাল সরকার গঠন (Parallel Governments) ⭐
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিকল্প স্বাধীন 'সমান্তরাল সরকার' প্রতিষ্ঠা:
বালিয়া (উত্তর প্রদেশ): ⭐ চিত্তু পাণ্ডে (Chittu Pandey)-র নেতৃত্বে ভারতের ১ম সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়।
তামলুক (মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ): ⭐ 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' গঠিত হয় (১৭ই ডিসেম্বর ১৯৪২ - ১৯৪৪)।
সর্বাধিনায়ক: সতীশচন্দ্র সামন্ত।
উইং: 'বিদ্যুৎ বাহিনী' (সশস্ত্র বাহিনী)।
শহিদ: ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা ⭐ মাতঙ্গিনী হাজরা (গান্ধী বুড়ি) ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে তমলুক থানা অভিযানে পুলিশের গুলিতে তেরঙা পতাকা হাতে শহিদ হন।
সাতারা (মহারাষ্ট্র): ⭐ 'প্রতি সরকার' (Prati Sarkar) — নাথ পাটিল ও ওয়াই বি চভানের নেতৃত্বে গঠিত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমান্তরাল সরকার (১৯৪৫ পর্যন্ত স্থায়ী)।
তালচের (ওড়িশা): সশস্ত্র সমান্তরাল সরকার।
(E) আন্দোলনের প্রভাব ও অবসান
আন্দোলন দমনে ব্রিটিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি, গ্রাম জ্বালানো এবং বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে।
মুসলিম লীগ ও ড. বি আর আম্বেদকর এই আন্দোলনে অংশ নেননি; হিন্দু মহাসভা ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (CPI) আন্দোলনের বিরোধিতা করে।
তা সত্ত্বেও এই আন্দোলন প্রমাণ করে দেয় যে, ভারতীয়দের অনিচ্ছায় তাদের ওপর ব্রিটিশ শাসন আর বেশিদিন চাপিয়ে রাখা অসম্ভব।
Table: সমান্তরাল সরকারসমূহ (Parallel Governments - 1942)
স্থান / অঞ্চল | সরকার / উদ্যোগের নাম | প্রধান নেতৃত্ব | বিশেষত্ব / বৈশিষ্ট্য |
বালিয়া (UP) | জাতীয় সরকার | চিত্তু পাণ্ডে | ভারতের ১ম গঠিত সমান্তরাল সরকার |
তমলুক (পশ্চিমবঙ্গ) | তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার | সতীশচন্দ্র সামন্ত, সুশীল ধাড়া | 'বিদ্যুৎ বাহিনী' গঠন; মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগ |
সাতারা (মহারাষ্ট্র) | প্রতি সরকার (Prati Sarkar) | নাথ পাটিল, ওয়াই. বি. চভান | সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমান্তরাল সরকার (1942-45) |
তালচের (ওড়িশা) | জাতীয় সরকার | স্থানীয় জনতা | সবচেয়ে বিধ্বংসী কৃষক বিদ্রোহ রূপ |
Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ আগস্ট অফার কে ঘোষণা করেন? ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো (৮ই আগস্ট, ১৯৪০)।
⭐ প্রথম 'ব্যক্তিগত সত্যগ্রহী' (Individual Satyagrah) কে ছিলেন? আচার্য বিনোবা ভাভে (২য়: জওহরলাল নেহেরু)।
⭐ ক্রিপস মিশন ভারত ত্যাগ করে কবে? ২৪শে এপ্রিল, ১৯৪২ (ভারতে এসেছিল ২২শে মার্চ, ১৯৪২)।
⭐ "Post-dated cheque on a crashing bank" — ক্রিপস মিশনকে কে এই আখ্যা দেন? মহাত্মা গান্ধী।
⭐ "Do or Die" (করব অথবা মরব) স্লোগানটি গান্ধীজি কোন আন্দোলনে দেন? ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)।
⭐ 'Quit India' উক্তিটি প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন? ইউসুফ মেহের আলী (Yusuf Meherally)।
⭐ অপারেশন জিরো আওয়ার (Operation Zero Hour) কিসের সাথে যুক্ত? ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতাদের ৯ই আগস্ট ভোরের মধ্যে গ্রেফতার করার ব্রিটিশ অভিযান।
⭐ গোপন কংগ্রেস রেডিও স্টেশনের সাথে কে যুক্ত ছিলেন? উষা মেহতা (Usha Mehta)।
⭐ 'গান্ধী বুড়ি' নামে কে পরিচিত? মাতঙ্গিনী হাজরা (তমলুক, মেদিনীপুর)।
⭐ ১৯৪২ সালের আন্দোলনের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন? লর্ড লিনলিথগো (সেনাপ্রধান ছিলেন লর্ড ওয়াভেল)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: 'Quit India' এবং 'Do or Die' উভয় স্লোগানই গান্ধীজি তৈরি করেছিলেন।
সঠিক তথ্য: "Do or Die" স্লোগানটি গান্ধীজি দিয়েছিলেন, কিন্তু "Quit India" (ভারত ছাড়ো) এবং "Simon Go Back" শব্দবন্ধটি প্রথম তৈরি করেছিলেন ইউসুফ মেহের আলী।
ভুলধারণা 2: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সবাই সমর্থন দিয়েছিল।
সঠিক তথ্য: মুসলিম লীগ, হিন্দু মহাসভা এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (CPI) এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি বা বিরোধিতা করেছিল।
ভুলধারণা 3: ক্রিপস মিশন ও ক্যাবিনেট মিশন একই বছর ভারতে আসে।
সঠিক তথ্য: ক্রিপস মিশন আসে ১৯৪২ সালে (স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস), আর ক্যাবিনেট মিশন আসে ১৯৪৬ সালে।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
আগস্ট অফার: ৮ আগস্ট ১৯৪০ | ভাইসরয়: লর্ড লিনলিথগো | ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের প্রস্তাব।
ব্যক্তিগত সত্যগ্রহ: ১৯৪০ | ১ম: বিনোবা ভাভে, ২য়: জওহরলাল নেহেরু | "দিল্লি চলো"।
ক্রিপস মিশন: মার্চ ১৯৪২ | স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস | "Post-dated Cheque" (গান্ধীজি)।
ভারত ছাড়ো প্রস্তাব: ৮ই আগস্ট ১৯৪২ | বম্বে (গৌয়ালিয়া ট্যাঙ্ক) | স্লোগান: "Do or Die"।
অপারেশন জিরো আওয়ার: ৯ই আগস্ট ১৯৪২ | প্রথম সারির সব নেতা গ্রেফতার।
বন্দী কেন্দ্র: গান্ধীজি ➔ আগা খান প্যালেস (পুনে); নেহেরু ➔ আহমাদনগর দুর্গ।
গোপন রেডিও: উষা মেহতা।
সমান্তরাল সরকার: বালিয়া (চিত্তু পাণ্ডে), তমলুক (সতীশ সামন্ত), সাতারা (নাথ পাটিল - দীর্ঘতম)।
তমলুক শহিদ: মাতঙ্গিনী হাজরা (২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২)।