Primary ও Upper Primary TET পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাংলা পেডাগজির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। ভাষাগত দক্ষতা, পাঠের বিভিন্ন ধরন এবং ভাষা শিক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখানে দেওয়া হয়েছে।
📚 বাংলা পেডাগজি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
Primary & Upper Primary TET
১। সুন্দর কথা বলার বৈশিষ্ট্য বলুন।
উত্তর:
(ক) স্পষ্টতা
(খ) কার্যকারিতা
(গ) বাকপটুত্ব
(ঘ) সৌন্দর্যবিধান
(ঙ) শ্রবণযোগ্যতা
(চ) অনায়াস ভঙ্গি
(ছ) স্বতঃস্ফূর্ততা
২। সুন্দর হাতের লেখার বৈশিষ্ট্য বলুন।
উত্তর:
স্পষ্টতা, সরলতা, সমতা, ব্যবধান, দ্রুততা, যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ।
৩। লিখন ও কথনের পার্থক্য বলুন।
উত্তর:
(ক) লিখন একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া। কোনো বিষয় মুদ্রিত হলে তা সহজে পরিবর্তন করা যায় না, কিন্তু কথন তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া বিশেষ। এটিকে স্থায়ী করতে হলে এর রেকর্ডিং রাখা দরকার।
(খ) লিখনের রূপ বা ছাপ প্রায় এক রকমই থাকে, কিন্তু কথনের ভঙ্গি মানুষ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন করতে পারে।
(গ) লেখা বা লিখিত বিষয় মানুষের স্থান ও সীমাকে অতিক্রম করে ভবিষ্যতের দিকমুখী হয়, কিন্তু কথন তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া মাত্র।
(ঘ) লিখন একটি জটিল প্রক্রিয়া। বানান, ছেদ, যতি নানা কিছু মেনে লিখতে হয়, তবে কথনের বা বলার সময় অত কিছু মানা হয় না। লিখন বর্ণকেন্দ্রিক, কিন্তু কথন একেবারে ধ্বনি-নির্ভর।
৪। মাইকেল ওয়েস্ট-এর পঠন পদ্ধতির পাঁচটি ধাপ উল্লেখ করুন।
উত্তর:
(i) শব্দ পরিচিতি (Recognition)
(ii) শব্দের ব্যাখ্যা (Word Interpretation)
(iii) সংশ্লেষণ (Synthesis)
(iv) বিভাজন (Grouping)
(v) সারবস্তু বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা (Skimming)
৫। সমবেত পাঠ কী?
উত্তর:
প্রাথমিক স্তরে সমবেত পাঠ বিশেষ কার্যকরী। শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে বসে একসাথে যে পাঠ করে, তাকে সমবেত পাঠ বলা হয়ে থাকে। সমবেত পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নামতা শেখানো হয়ে থাকে। শ্রেণির যে সমস্ত শিক্ষার্থী ছন্দ, ভাব, শুদ্ধ উচ্চারণ অনুযায়ী সরব পাঠ করে, তাদের অনুসরণ করে অন্য শিক্ষার্থীরা খুব সহজে ও কম সময়ে বিষয়বস্তুটি অতি সহজে আয়ত্ত করতে পারে।
৬। ধারণা পাঠ কাকে বলে?
উত্তর:
কোনো বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পেতে হলে যে ধরনের পাঠের প্রয়োজন হয়, তাকেই ধারণা পাঠ বলে। নিখুঁত বিচার-বিশ্লেষণ, রসের আস্বাদন বা কোনো কিছুর সমালোচনা করা এই পাঠের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেবল একটা সাধারণ ধারণা পাওয়ার জন্য যে পাঠ—তাকেই ধারণা পাঠ বলে। সংবাদপত্র পাঠ, কোনো সাময়িক পত্রিকা পাঠ বা কোনো গল্পগ্রন্থ পড়া প্রভৃতি ধারণা পাঠের সাহায্যে করা হয়। অনেকে আবার একে আয়ত্তীকরণ পাঠও বলেন।
৭। চর্বণা পাঠ কী?
উত্তর:
যখন কোনো কঠিন প্রবন্ধ বা বিষয়বস্তুকে বিচার-বিশ্লেষণ করে অন্তর্নিহিত অর্থ পাওয়া যায়—এই ধরনের বিষয়বস্তুর পাঠকে চর্বণা পাঠ বলা হয়। কঠিন খাদ্যবস্তুকে যেমন চিবিয়ে চিবিয়ে তার রস আস্বাদন করতে হয়, এখানেও তেমনি কঠিন বিষয়বস্তুকে দীর্ঘ অনুশীলনের সাহায্যে আয়ত্ত করতে হয়। যে সমস্ত রচনার বিষয়বস্তুর প্রাধান্য থাকে, সে সমস্ত ক্ষেত্রে চর্বণা পাঠ প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথের বা বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধ অনুশীলনে চর্বণা পাঠের উপযোগিতা যথেষ্ট।
৮। স্বাদনা পাঠ কী?
উত্তর:
কাব্য-কবিতায় বিষয়বস্তুর চেয়ে কবির অনুভূতির উচ্ছ্বাস বেশি করে ধরা পড়ে। কবিতায় রস বিশ্লেষণ বা রসাস্বাদনই বড়ো কথা। রসাস্বাদন বলতে বোঝায়, কবির গভীর অনুভূতি বা উপলব্ধি বা বিশিষ্ট শব্দ ব্যবহারের দ্বারা, প্রকাশভঙ্গির দ্বারা, ছন্দ ও প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশিত হয় এবং কবিতা রচনা কালে কবির হৃদয়ে যে অনির্বচনীয় ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়, কবি যে অনুপম ভাবসৌন্দর্যের জগতে বিচরণ করেছিলেন সেটিকে উপলব্ধি করা ও কবির ভাব-ভাবনার সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করা। এবং এই উপলব্ধি একমাত্র স্বাদনা পাঠের দ্বারা সম্ভব।
৯। ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের উপযোগিতা কী?
উত্তর:
মাতৃভাষার ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন নানাবিধ। যেমন—
(i) ভাব বিনিময়ের জন্য
(ii) সুষ্ঠু আত্মপ্রকাশের জন্য
(iii) পেশাগত দক্ষতায় যথা উপযুক্ত হয়ে ওঠা
(iv) ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করা
১০। মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন বলতে বোঝায়—
(i) ভাষা শুনে বুঝতে পারা
(ii) ভাষাটিকে কোথায় ঠিকমতো বা যথাযথ ব্যবহার করতে পারা
(iii) ভাষার লিপিরূপ পড়তে পারা
(iv) নিজেই লিপিরূপ ব্যবহার করতে পারা
১১। শিক্ষার্থীর শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন চারটি দক্ষতার প্রয়োজন?
উত্তর:
যেকোনো ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন তা হল—
(i) শ্রবণ দক্ষতা
(ii) কথন দক্ষতা
(iii) পঠন দক্ষতা
(iv) লিখন দক্ষতা
১২। শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন কারণ—
(i) মাতৃভাষার ধ্বনিরূপ, সঠিক উচ্চারণ ও যথাযথ অর্থের দিকটি বুঝে নিতে।
(ii) একই বাক্য বিভিন্ন শ্রোতার কাছে বিভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে।
(iii) প্রসঙ্গভেদে শব্দের অর্থের বদল ঘটতে পারে।
(iv) শোনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মানসিক আগ্রহ, সক্রিয়তা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন।
(v) উদ্দেশ্য অনুযায়ী শ্রবণজাত কথাকে বুঝে নেওয়া জরুরি, কারণ ঠিকমতো না শুনলে ঠিকমতো উত্তরও দেওয়া যাবে না।
এসব কারণেই শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন।
১৩। কোনো শিক্ষার্থীর কথন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
কোনো শিক্ষার্থীর কথন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কারণ—
(i) আপন চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার জন্য।
(ii) অপরের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে।
(iii) নিজের কোনো জিজ্ঞাসার প্রয়োজনে।
(iv) তর্ক-বিতর্কে অংশগ্রহণের প্রয়োজনে।
(v) নিজের সৃজনশীল ভাবনাকে প্রকাশের প্রয়োজনে।
১৪। পঠন দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় দিকগুলি কী?
উত্তর:
পঠন দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় দিকগুলি হল—
(i) ভাষা ও ব্যাকরণের জ্ঞান
(ii) সঠিক উচ্চারণের ধারণা
(iii) ছেদ, যতি, বিরামচিহ্ন ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান
(iv) সাবলীল বা স্বচ্ছন্দ
(v) গতি পাঠের উপলব্ধি
(vi) অভিব্যক্তি
১৫। লিখন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কোথায়?
উত্তর:
যেসব ক্ষেত্রে লিখন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন হয় সেগুলি হল—
(i) আপন অনুভূতি প্রকাশের প্রয়োজনে।
(ii) আপন মতামত জানাবার প্রয়োজনে।
(iii) চিঠিপত্র লেখা প্রভৃতি যোগাযোগের প্রয়োজনে।
(iv) কোনো সৃজনশীল রচনা প্রকাশের প্রয়োজনে।
(v) শুদ্ধভাবে লেখার প্রয়োজনে।
(vi) সর্বোপরি নানা ধরনের লেখার প্রয়োজনে।
১৬। শোনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোন কোন দিকে নজর দিতে হয়?
উত্তর:
বার্তাটির ধ্বনিরূপ, উচ্চারণ, বার্তার অর্থগত দিক, প্রসঙ্গসূত্র, শোনার উদ্দেশ্য, বক্তার অভিপ্রায়।
১৭। একজন ভালো পাঠকের বৈশিষ্ট্য কী? সংক্ষেপে বলুন।
উত্তর:
(i) যার পাঠে আগ্রহ আছে।
(ii) উদ্দেশ্য সামনে রেখে পাঠ করে এবং পাঠের মাধ্যমে উদ্দেশ্য খুঁজে পায়।
(iii) বিষয়ভেদে পাঠরীতি বদলাতে সমর্থ ব্যক্তি।
(iv) শব্দ ব্যবহার, বাক্য গঠনরীতি, ছন্দ, অলংকারের প্রয়োগ প্রভৃতি নজরে এনে ভাব উপলব্ধির চেষ্টা করে।
(v) প্রয়োজনমতো কৌশল ব্যবহারে সমর্থ্য।
📖 ভাষা শিক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি
১৮। শব্দানুক্রমিক পদ্ধতি কী? এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বলুন।
উত্তর:
যে পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে প্রথমে শব্দ পড়ে উচ্চারণ শিখিয়ে সেই শব্দটি ভেঙে কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সেটি বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে শব্দানুক্রমিক পদ্ধতি বলে।
এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিভিন্ন ছবি ও শব্দের মাধ্যমে বর্ণ চিনবে। বক, বন এসব জানবে।
সুবিধা:
(i) বস্তুগুলি সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিচিতি ঘটে।
(ii) বল, জল বা কলম—এদের বানান সম্পর্কে পরিচিতি ঘটে।
(iii) এই বস্তুগুলির সার্থক উচ্চারণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবহিত হতে পারে।
(iv) বস্তু সম্পর্কে সাধারণ ধারণা গড়ে ওঠে।
(v) ছবি দেখিয়ে শব্দ পরিচিতি করানো যায়।
অসুবিধা:
(i) বস্তুগুলি অতি পরিচিত হতে হবে।
(ii) যে বস্তুর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এখনও পরিচিত নয়, সেগুলি বলা যাবে না।
(iii) বইতে যে বস্তুগুলি আঁকা রয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
(iv) শেখাবার জন্য যথেষ্ট সময় ও ধৈর্যের দরকার।
১৯। বর্ণানুক্রমিক বা স্বরবিধি পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এই রীতির প্রচলন সর্বাধিক। এই পদ্ধতিতে শিশুকে একের পর এক বর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে স্বরবর্ণ, পরে ব্যঞ্জনবর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এরপর যুক্তবর্ণের পাঠ দিতে হয়। স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ও যুক্তবর্ণ শেখালে হবে না, তাদের সঠিক উচ্চারণ ও সেগুলির গঠন প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য কী তাও জানানো জরুরি। প্রতিটি বর্ণের কার্ড তৈরি করতে হবে এবং কার্ডের সাহায্যে ছবি দেখিয়ে বর্ণের পরিচিতি আনতে হবে।
যেমন—ব/ই, ক/ই।
খঞ্জ—এখানে ‘খ’-এর সঙ্গে ঞ্জ (ইঁয়োয় বর্গীয়-জ) যুক্ত হয়েছে।
সুবিধা:
(i) প্রতিটি বর্ণের গঠন সম্পর্কে অবহিত হতে পারে।
(ii) বর্ণের পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে বর্ণটির উচ্চারণ সম্পর্কে অবহিত হতে পারে।
(iii) বর্ণের কার্ড দিয়ে পরিচিত শব্দ তৈরি করতে পারে।
(iv) অপরিচিত বা অপ্রচলিত কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
অসুবিধা:
(i) বর্ণের কার্ডগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
(ii) শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বুঝতে না পারলে ব্যাপারটি ফলদায়ী হবে না।
২০। বাক্যক্রম পদ্ধতি কী? এর সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
বাক্যক্রম পদ্ধতিতে ছোটো ছোটো শব্দ যোগে ছোটো ছোটো বাক্য গঠন করতে শেখানো হয়। অতি পরিচিত শব্দ দিয়ে এগুলি অভ্যাস করাতে হয়। যেমন—আমি ভাত খাই, রাম আম খায়, নবীন বই পড়ে প্রভৃতি।
সুবিধা:
(i) কীভাবে বাক্য তৈরি হয় তা বুঝতে পারবে।
(ii) অর্থযুক্ত বাক্য ও অর্থহীন বাক্যের পার্থক্য বুঝতে পারবে।
(iii) সহজ বাক্য লেখার অভ্যাস তৈরি হবে।
(iv) বাক্য গঠন সম্বন্ধে ধারণা জন্মাবে।
(v) শুদ্ধভাবে বাক্য লেখার অভ্যাস তৈরি হবে।
অসুবিধা:
(i) কোন ছাত্র কী বাক্য লিখল, তা একজন শিক্ষকের পক্ষে নিরীক্ষা করা কঠিন।
(ii) সবাই যে সহজভাবে বাক্য গঠন করতে পারবে—এমন কোনো কথা নেই।
২১। অভিনয় পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
অভিনয় ব্যাপারটি যেমন চিত্তাকর্ষক, তেমন আনন্দদায়কও বটে। এছাড়া অভিনয় এমন একটি মাধ্যম, যা দর্শকদের চোখ, কান ও মনকে নাড়া দেয়, আর এই কারণেই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সৃষ্টিতে ও বিষয়টি সম্যকভাবে অনুধাবন করতে এই পদ্ধতির ব্যবহার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির বইতে অভিনয় উপযোগী বেশ কিছু পাঠ্যাংশ সংযোজিত হয়েছে। এইসব পাঠ্যাংশ অভিনয় পদ্ধতিতে পড়ালে বেশ সুফল পাওয়া যায়। এ ধরনের কয়েকটি পাঠ্যাংশ হল—
প্রথম শ্রেণিতে — ‘পশুর দেশে’
দ্বিতীয় শ্রেণিতে — ‘প্রথম পুরস্কার’ — স্বপন বুড়ো
তৃতীয় শ্রেণিতে — ‘পানতা বুড়ি’ — যোগীন্দ্রনাথ সরকার
চতুর্থ শ্রেণিতে — ‘আলো’ — লীলা মজুমদার
পঞ্চম শ্রেণিতে — ‘ফণীমনসা ও বনের পরি’ — বীরু চট্টোপাধ্যায়
সুবিধা:
(i) অভিনয় করার জন্য পাঠ মুখস্থ করার সময় নির্দিষ্ট অংশটিকে বারবার পড়তে হয় বলে বক্তব্যে স্পষ্টতা ও উচ্চারণে স্বচ্ছতা জন্মায়।
(ii) অভিনয়ের উপযুক্ত আবেগ, অনুভূতি যথাসম্ভব প্রয়োগ করতে শেখে।
(iii) কথন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
অসুবিধা:
(i) অভিনয়ের প্রতি খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়লে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া শক্ত।
(ii) লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে নাটকের ভঙ্গিতে কথা না বলে।
(iii) যাতে বিকৃত উচ্চারণে অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে, তা দেখতে হবে।
২২। অনুকরণ পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
শিশু জন্মাবার পর থেকেই সে প্রায় সব ব্যাপারেই অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তার গৃহপরিবেশ থেকে ভাষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য আচরণ অনুকরণের মাধ্যমেই শিক্ষা নিয়ে থাকে। এই অনুকরণের সাহায্যেই তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়।
সুবিধা:
(i) বক্তব্য শিক্ষকের পাঠ বা মূল পাঠের অনুসারী হয়।
(ii) অনুকরণের ফলে পাঠে ভুল-ভ্রান্তির পরিমাণ কম থাকে।
(iii) ধীরে ধীরে শুদ্ধ পাঠে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
অসুবিধা:
(i) অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে সমস্যা দেখা দেয়।
(ii) শিক্ষার্থী মৌলিকত্ব হারিয়ে ফেলে।
(iii) আঞ্চলিক উচ্চারণে যাতে অভ্যস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
২৩। অনুবন্ধ পদ্ধতি কী? এর তিনটি সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
উত্তর:
একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ের যোগসূত্র রচনা করে যে শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে অনুবন্ধ পদ্ধতি বলে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে সমজাতীয় বিষয়সমূহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন দ্বারা শিক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালন করাকেই বলা হয় অনুবন্ধ প্রণালী।
সুবিধা:
(i) এক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য একটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।
(ii) সম্পর্কিত দুটি বিষয়ের উপর বিশেষ ধারণা জন্মায়।
(iii) শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
অসুবিধা:
(i) বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীদের সবসময় স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
(ii) স্পষ্ট ধারণার অভাবে অনুবন্ধ প্রণালী প্রয়োগ করা অসম্ভব।
(iii) সব শিক্ষকের সব বিষয়ে সমান জ্ঞান থাকবে—এমন মনে করা ঠিক নয়।
২৪। বিবৃতিমূলক পদ্ধতি কী? এর তিনটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
বিবৃতিমূলক পদ্ধতি বিষয়কে হৃদয়গ্রাহী, প্রাণবন্ত ও স্বচ্ছন্দ করে তোলে। বিষয়বস্তুকে বোঝাবার জন্য শিক্ষক বিবৃতির সাহায্যে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই বিবৃতির গুণে বিষয়বস্তুর একটি স্পষ্ট চিত্র শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটে ওঠে, যা বিষয়বস্তুকে আত্মস্থ করতে সাহায্য করে।
সুবিধা:
(i) এই পদ্ধতি বিষয়বস্তুকে হৃদয়গ্রাহী, প্রাণবন্ত ও সাবলীল করে তোলে।
(ii) বিষয়বস্তুর ধারণায় স্পষ্টতা আসে।
(iii) বিবৃতিতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ থাকে।
অসুবিধা:
(i) বিবৃতির চমৎকারিত্ব শিক্ষার্থীদের আনমনা করে দেয়।
(ii) চমৎকার বিবৃতি মূল বিষয়ে প্রবেশের কিছুটা হলেও অসুবিধার সৃষ্টি করে।
(iii) অপরদিকে বিবৃতি মনোগ্রাহী না হলে শিক্ষার্থীর পাঠের প্রতি মনোযোগের অভাব ঘটে।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from TET Core Essentials
Practice targeted Environment, Ecology, and Ecosystem MCQs from WB Primary TET previous years' papers with correct answe...
Primary ও Upper Primary TET পরীক্ষার জন্য বাংলা ধ্বনি ও বর্ণের গুরুত্বপূর্ণ নোট। বাংলা বর্ণমালা, স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ,...
Primary ও Upper Primary TET পরীক্ষার জন্য বাংলা ভাষা শিক্ষা, ভাষার চারটি দক্ষতা, ভাষা অর্জন, শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা, Const...
Primary ও Upper Primary TET পরীক্ষার জন্য বাংলা ধ্বনি ও বর্ণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বর্ণের মাত্রা, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনি, ঘো...
বাংলা বর্ণমালার চৈতন/টিকি, আঁকড়ি, পাগড়ি ও ঘাই—এই বিশেষ শ্রেণিবিভাগের বর্ণ ও বৈশিষ্ট্য সহজে জেনে নিন।
Primary TET পরীক্ষার জন্য শিখন তত্ত্ব, বুদ্ধির তত্ত্ব, শিশুর বিকাশ, প্রেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ মনোবৈজ্ঞানিক ধারণার সংক্ষিপ্ত...

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
📚 বাংলা পেডাগজি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
Primary & Upper Primary TET
১। সুন্দর কথা বলার বৈশিষ্ট্য বলুন।
উত্তর:
(ক) স্পষ্টতা
(খ) কার্যকারিতা
(গ) বাকপটুত্ব
(ঘ) সৌন্দর্যবিধান
(ঙ) শ্রবণযোগ্যতা
(চ) অনায়াস ভঙ্গি
(ছ) স্বতঃস্ফূর্ততা
২। সুন্দর হাতের লেখার বৈশিষ্ট্য বলুন।
উত্তর:
স্পষ্টতা, সরলতা, সমতা, ব্যবধান, দ্রুততা, যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ।
৩। লিখন ও কথনের পার্থক্য বলুন।
উত্তর:
(ক) লিখন একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া। কোনো বিষয় মুদ্রিত হলে তা সহজে পরিবর্তন করা যায় না, কিন্তু কথন তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া বিশেষ। এটিকে স্থায়ী করতে হলে এর রেকর্ডিং রাখা দরকার।
(খ) লিখনের রূপ বা ছাপ প্রায় এক রকমই থাকে, কিন্তু কথনের ভঙ্গি মানুষ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন করতে পারে।
(গ) লেখা বা লিখিত বিষয় মানুষের স্থান ও সীমাকে অতিক্রম করে ভবিষ্যতের দিকমুখী হয়, কিন্তু কথন তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া মাত্র।
(ঘ) লিখন একটি জটিল প্রক্রিয়া। বানান, ছেদ, যতি নানা কিছু মেনে লিখতে হয়, তবে কথনের বা বলার সময় অত কিছু মানা হয় না। লিখন বর্ণকেন্দ্রিক, কিন্তু কথন একেবারে ধ্বনি-নির্ভর।
৪। মাইকেল ওয়েস্ট-এর পঠন পদ্ধতির পাঁচটি ধাপ উল্লেখ করুন।
উত্তর:
(i) শব্দ পরিচিতি (Recognition)
(ii) শব্দের ব্যাখ্যা (Word Interpretation)
(iii) সংশ্লেষণ (Synthesis)
(iv) বিভাজন (Grouping)
(v) সারবস্তু বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা (Skimming)
৫। সমবেত পাঠ কী?
উত্তর:
প্রাথমিক স্তরে সমবেত পাঠ বিশেষ কার্যকরী। শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে বসে একসাথে যে পাঠ করে, তাকে সমবেত পাঠ বলা হয়ে থাকে। সমবেত পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নামতা শেখানো হয়ে থাকে। শ্রেণির যে সমস্ত শিক্ষার্থী ছন্দ, ভাব, শুদ্ধ উচ্চারণ অনুযায়ী সরব পাঠ করে, তাদের অনুসরণ করে অন্য শিক্ষার্থীরা খুব সহজে ও কম সময়ে বিষয়বস্তুটি অতি সহজে আয়ত্ত করতে পারে।
৬। ধারণা পাঠ কাকে বলে?
উত্তর:
কোনো বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পেতে হলে যে ধরনের পাঠের প্রয়োজন হয়, তাকেই ধারণা পাঠ বলে। নিখুঁত বিচার-বিশ্লেষণ, রসের আস্বাদন বা কোনো কিছুর সমালোচনা করা এই পাঠের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেবল একটা সাধারণ ধারণা পাওয়ার জন্য যে পাঠ—তাকেই ধারণা পাঠ বলে। সংবাদপত্র পাঠ, কোনো সাময়িক পত্রিকা পাঠ বা কোনো গল্পগ্রন্থ পড়া প্রভৃতি ধারণা পাঠের সাহায্যে করা হয়। অনেকে আবার একে আয়ত্তীকরণ পাঠও বলেন।
৭। চর্বণা পাঠ কী?
উত্তর:
যখন কোনো কঠিন প্রবন্ধ বা বিষয়বস্তুকে বিচার-বিশ্লেষণ করে অন্তর্নিহিত অর্থ পাওয়া যায়—এই ধরনের বিষয়বস্তুর পাঠকে চর্বণা পাঠ বলা হয়। কঠিন খাদ্যবস্তুকে যেমন চিবিয়ে চিবিয়ে তার রস আস্বাদন করতে হয়, এখানেও তেমনি কঠিন বিষয়বস্তুকে দীর্ঘ অনুশীলনের সাহায্যে আয়ত্ত করতে হয়। যে সমস্ত রচনার বিষয়বস্তুর প্রাধান্য থাকে, সে সমস্ত ক্ষেত্রে চর্বণা পাঠ প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথের বা বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধ অনুশীলনে চর্বণা পাঠের উপযোগিতা যথেষ্ট।
৮। স্বাদনা পাঠ কী?
উত্তর:
কাব্য-কবিতায় বিষয়বস্তুর চেয়ে কবির অনুভূতির উচ্ছ্বাস বেশি করে ধরা পড়ে। কবিতায় রস বিশ্লেষণ বা রসাস্বাদনই বড়ো কথা। রসাস্বাদন বলতে বোঝায়, কবির গভীর অনুভূতি বা উপলব্ধি বা বিশিষ্ট শব্দ ব্যবহারের দ্বারা, প্রকাশভঙ্গির দ্বারা, ছন্দ ও প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশিত হয় এবং কবিতা রচনা কালে কবির হৃদয়ে যে অনির্বচনীয় ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়, কবি যে অনুপম ভাবসৌন্দর্যের জগতে বিচরণ করেছিলেন সেটিকে উপলব্ধি করা ও কবির ভাব-ভাবনার সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করা। এবং এই উপলব্ধি একমাত্র স্বাদনা পাঠের দ্বারা সম্ভব।
৯। ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের উপযোগিতা কী?
উত্তর:
মাতৃভাষার ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন নানাবিধ। যেমন—
(i) ভাব বিনিময়ের জন্য
(ii) সুষ্ঠু আত্মপ্রকাশের জন্য
(iii) পেশাগত দক্ষতায় যথা উপযুক্ত হয়ে ওঠা
(iv) ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করা
১০। মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন বলতে বোঝায়—
(i) ভাষা শুনে বুঝতে পারা
(ii) ভাষাটিকে কোথায় ঠিকমতো বা যথাযথ ব্যবহার করতে পারা
(iii) ভাষার লিপিরূপ পড়তে পারা
(iv) নিজেই লিপিরূপ ব্যবহার করতে পারা
১১। শিক্ষার্থীর শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন চারটি দক্ষতার প্রয়োজন?
উত্তর:
যেকোনো ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন তা হল—
(i) শ্রবণ দক্ষতা
(ii) কথন দক্ষতা
(iii) পঠন দক্ষতা
(iv) লিখন দক্ষতা
১২। শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন কারণ—
(i) মাতৃভাষার ধ্বনিরূপ, সঠিক উচ্চারণ ও যথাযথ অর্থের দিকটি বুঝে নিতে।
(ii) একই বাক্য বিভিন্ন শ্রোতার কাছে বিভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে।
(iii) প্রসঙ্গভেদে শব্দের অর্থের বদল ঘটতে পারে।
(iv) শোনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মানসিক আগ্রহ, সক্রিয়তা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন।
(v) উদ্দেশ্য অনুযায়ী শ্রবণজাত কথাকে বুঝে নেওয়া জরুরি, কারণ ঠিকমতো না শুনলে ঠিকমতো উত্তরও দেওয়া যাবে না।
এসব কারণেই শিক্ষার্থীর শ্রবণ দক্ষতা অনুশীলনের প্রয়োজন।
১৩। কোনো শিক্ষার্থীর কথন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
কোনো শিক্ষার্থীর কথন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কারণ—
(i) আপন চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার জন্য।
(ii) অপরের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে।
(iii) নিজের কোনো জিজ্ঞাসার প্রয়োজনে।
(iv) তর্ক-বিতর্কে অংশগ্রহণের প্রয়োজনে।
(v) নিজের সৃজনশীল ভাবনাকে প্রকাশের প্রয়োজনে।
১৪। পঠন দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় দিকগুলি কী?
উত্তর:
পঠন দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় দিকগুলি হল—
(i) ভাষা ও ব্যাকরণের জ্ঞান
(ii) সঠিক উচ্চারণের ধারণা
(iii) ছেদ, যতি, বিরামচিহ্ন ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান
(iv) সাবলীল বা স্বচ্ছন্দ
(v) গতি পাঠের উপলব্ধি
(vi) অভিব্যক্তি
১৫। লিখন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন কোথায়?
উত্তর:
যেসব ক্ষেত্রে লিখন দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজন হয় সেগুলি হল—
(i) আপন অনুভূতি প্রকাশের প্রয়োজনে।
(ii) আপন মতামত জানাবার প্রয়োজনে।
(iii) চিঠিপত্র লেখা প্রভৃতি যোগাযোগের প্রয়োজনে।
(iv) কোনো সৃজনশীল রচনা প্রকাশের প্রয়োজনে।
(v) শুদ্ধভাবে লেখার প্রয়োজনে।
(vi) সর্বোপরি নানা ধরনের লেখার প্রয়োজনে।
১৬। শোনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোন কোন দিকে নজর দিতে হয়?
উত্তর:
বার্তাটির ধ্বনিরূপ, উচ্চারণ, বার্তার অর্থগত দিক, প্রসঙ্গসূত্র, শোনার উদ্দেশ্য, বক্তার অভিপ্রায়।
১৭। একজন ভালো পাঠকের বৈশিষ্ট্য কী? সংক্ষেপে বলুন।
উত্তর:
(i) যার পাঠে আগ্রহ আছে।
(ii) উদ্দেশ্য সামনে রেখে পাঠ করে এবং পাঠের মাধ্যমে উদ্দেশ্য খুঁজে পায়।
(iii) বিষয়ভেদে পাঠরীতি বদলাতে সমর্থ ব্যক্তি।
(iv) শব্দ ব্যবহার, বাক্য গঠনরীতি, ছন্দ, অলংকারের প্রয়োগ প্রভৃতি নজরে এনে ভাব উপলব্ধির চেষ্টা করে।
(v) প্রয়োজনমতো কৌশল ব্যবহারে সমর্থ্য।
📖 ভাষা শিক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি
১৮। শব্দানুক্রমিক পদ্ধতি কী? এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বলুন।
উত্তর:
যে পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে প্রথমে শব্দ পড়ে উচ্চারণ শিখিয়ে সেই শব্দটি ভেঙে কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সেটি বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে শব্দানুক্রমিক পদ্ধতি বলে।
এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিভিন্ন ছবি ও শব্দের মাধ্যমে বর্ণ চিনবে। বক, বন এসব জানবে।
সুবিধা:
(i) বস্তুগুলি সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিচিতি ঘটে।
(ii) বল, জল বা কলম—এদের বানান সম্পর্কে পরিচিতি ঘটে।
(iii) এই বস্তুগুলির সার্থক উচ্চারণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবহিত হতে পারে।
(iv) বস্তু সম্পর্কে সাধারণ ধারণা গড়ে ওঠে।
(v) ছবি দেখিয়ে শব্দ পরিচিতি করানো যায়।
অসুবিধা:
(i) বস্তুগুলি অতি পরিচিত হতে হবে।
(ii) যে বস্তুর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এখনও পরিচিত নয়, সেগুলি বলা যাবে না।
(iii) বইতে যে বস্তুগুলি আঁকা রয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
(iv) শেখাবার জন্য যথেষ্ট সময় ও ধৈর্যের দরকার।
১৯। বর্ণানুক্রমিক বা স্বরবিধি পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এই রীতির প্রচলন সর্বাধিক। এই পদ্ধতিতে শিশুকে একের পর এক বর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে স্বরবর্ণ, পরে ব্যঞ্জনবর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এরপর যুক্তবর্ণের পাঠ দিতে হয়। স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ও যুক্তবর্ণ শেখালে হবে না, তাদের সঠিক উচ্চারণ ও সেগুলির গঠন প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য কী তাও জানানো জরুরি। প্রতিটি বর্ণের কার্ড তৈরি করতে হবে এবং কার্ডের সাহায্যে ছবি দেখিয়ে বর্ণের পরিচিতি আনতে হবে।
যেমন—ব/ই, ক/ই।
খঞ্জ—এখানে ‘খ’-এর সঙ্গে ঞ্জ (ইঁয়োয় বর্গীয়-জ) যুক্ত হয়েছে।
সুবিধা:
(i) প্রতিটি বর্ণের গঠন সম্পর্কে অবহিত হতে পারে।
(ii) বর্ণের পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে বর্ণটির উচ্চারণ সম্পর্কে অবহিত হতে পারে।
(iii) বর্ণের কার্ড দিয়ে পরিচিত শব্দ তৈরি করতে পারে।
(iv) অপরিচিত বা অপ্রচলিত কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
অসুবিধা:
(i) বর্ণের কার্ডগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
(ii) শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বুঝতে না পারলে ব্যাপারটি ফলদায়ী হবে না।
২০। বাক্যক্রম পদ্ধতি কী? এর সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
বাক্যক্রম পদ্ধতিতে ছোটো ছোটো শব্দ যোগে ছোটো ছোটো বাক্য গঠন করতে শেখানো হয়। অতি পরিচিত শব্দ দিয়ে এগুলি অভ্যাস করাতে হয়। যেমন—আমি ভাত খাই, রাম আম খায়, নবীন বই পড়ে প্রভৃতি।
সুবিধা:
(i) কীভাবে বাক্য তৈরি হয় তা বুঝতে পারবে।
(ii) অর্থযুক্ত বাক্য ও অর্থহীন বাক্যের পার্থক্য বুঝতে পারবে।
(iii) সহজ বাক্য লেখার অভ্যাস তৈরি হবে।
(iv) বাক্য গঠন সম্বন্ধে ধারণা জন্মাবে।
(v) শুদ্ধভাবে বাক্য লেখার অভ্যাস তৈরি হবে।
অসুবিধা:
(i) কোন ছাত্র কী বাক্য লিখল, তা একজন শিক্ষকের পক্ষে নিরীক্ষা করা কঠিন।
(ii) সবাই যে সহজভাবে বাক্য গঠন করতে পারবে—এমন কোনো কথা নেই।
২১। অভিনয় পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
অভিনয় ব্যাপারটি যেমন চিত্তাকর্ষক, তেমন আনন্দদায়কও বটে। এছাড়া অভিনয় এমন একটি মাধ্যম, যা দর্শকদের চোখ, কান ও মনকে নাড়া দেয়, আর এই কারণেই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সৃষ্টিতে ও বিষয়টি সম্যকভাবে অনুধাবন করতে এই পদ্ধতির ব্যবহার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির বইতে অভিনয় উপযোগী বেশ কিছু পাঠ্যাংশ সংযোজিত হয়েছে। এইসব পাঠ্যাংশ অভিনয় পদ্ধতিতে পড়ালে বেশ সুফল পাওয়া যায়। এ ধরনের কয়েকটি পাঠ্যাংশ হল—
প্রথম শ্রেণিতে — ‘পশুর দেশে’
দ্বিতীয় শ্রেণিতে — ‘প্রথম পুরস্কার’ — স্বপন বুড়ো
তৃতীয় শ্রেণিতে — ‘পানতা বুড়ি’ — যোগীন্দ্রনাথ সরকার
চতুর্থ শ্রেণিতে — ‘আলো’ — লীলা মজুমদার
পঞ্চম শ্রেণিতে — ‘ফণীমনসা ও বনের পরি’ — বীরু চট্টোপাধ্যায়
সুবিধা:
(i) অভিনয় করার জন্য পাঠ মুখস্থ করার সময় নির্দিষ্ট অংশটিকে বারবার পড়তে হয় বলে বক্তব্যে স্পষ্টতা ও উচ্চারণে স্বচ্ছতা জন্মায়।
(ii) অভিনয়ের উপযুক্ত আবেগ, অনুভূতি যথাসম্ভব প্রয়োগ করতে শেখে।
(iii) কথন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
অসুবিধা:
(i) অভিনয়ের প্রতি খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়লে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া শক্ত।
(ii) লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে নাটকের ভঙ্গিতে কথা না বলে।
(iii) যাতে বিকৃত উচ্চারণে অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে, তা দেখতে হবে।
২২। অনুকরণ পদ্ধতি কী? এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
শিশু জন্মাবার পর থেকেই সে প্রায় সব ব্যাপারেই অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তার গৃহপরিবেশ থেকে ভাষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য আচরণ অনুকরণের মাধ্যমেই শিক্ষা নিয়ে থাকে। এই অনুকরণের সাহায্যেই তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়।
সুবিধা:
(i) বক্তব্য শিক্ষকের পাঠ বা মূল পাঠের অনুসারী হয়।
(ii) অনুকরণের ফলে পাঠে ভুল-ভ্রান্তির পরিমাণ কম থাকে।
(iii) ধীরে ধীরে শুদ্ধ পাঠে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
অসুবিধা:
(i) অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে সমস্যা দেখা দেয়।
(ii) শিক্ষার্থী মৌলিকত্ব হারিয়ে ফেলে।
(iii) আঞ্চলিক উচ্চারণে যাতে অভ্যস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
২৩। অনুবন্ধ পদ্ধতি কী? এর তিনটি সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
উত্তর:
একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ের যোগসূত্র রচনা করে যে শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে অনুবন্ধ পদ্ধতি বলে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে সমজাতীয় বিষয়সমূহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন দ্বারা শিক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালন করাকেই বলা হয় অনুবন্ধ প্রণালী।
সুবিধা:
(i) এক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য একটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।
(ii) সম্পর্কিত দুটি বিষয়ের উপর বিশেষ ধারণা জন্মায়।
(iii) শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
অসুবিধা:
(i) বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীদের সবসময় স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
(ii) স্পষ্ট ধারণার অভাবে অনুবন্ধ প্রণালী প্রয়োগ করা অসম্ভব।
(iii) সব শিক্ষকের সব বিষয়ে সমান জ্ঞান থাকবে—এমন মনে করা ঠিক নয়।
২৪। বিবৃতিমূলক পদ্ধতি কী? এর তিনটি সুবিধা ও অসুবিধা বলুন।
উত্তর:
বিবৃতিমূলক পদ্ধতি বিষয়কে হৃদয়গ্রাহী, প্রাণবন্ত ও স্বচ্ছন্দ করে তোলে। বিষয়বস্তুকে বোঝাবার জন্য শিক্ষক বিবৃতির সাহায্যে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই বিবৃতির গুণে বিষয়বস্তুর একটি স্পষ্ট চিত্র শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটে ওঠে, যা বিষয়বস্তুকে আত্মস্থ করতে সাহায্য করে।
সুবিধা:
(i) এই পদ্ধতি বিষয়বস্তুকে হৃদয়গ্রাহী, প্রাণবন্ত ও সাবলীল করে তোলে।
(ii) বিষয়বস্তুর ধারণায় স্পষ্টতা আসে।
(iii) বিবৃতিতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ থাকে।
অসুবিধা:
(i) বিবৃতির চমৎকারিত্ব শিক্ষার্থীদের আনমনা করে দেয়।
(ii) চমৎকার বিবৃতি মূল বিষয়ে প্রবেশের কিছুটা হলেও অসুবিধার সৃষ্টি করে।
(iii) অপরদিকে বিবৃতি মনোগ্রাহী না হলে শিক্ষার্থীর পাঠের প্রতি মনোযোগের অভাব ঘটে।