প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ভারতের বিপ্লবী আন্দোলন (১৯১৪ - ১৯১৮)
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (First World War) শুরু হলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের ব্যস্ততা ও সংকটকে ভারতের বিপ্লবী জাতীয়তাবাদীরা একটি "সুবর্ণ সুযোগ" (Golden Opportunity) হিসেবে গ্রহণ করেন।
বিপ্লবীদের মূল কৌশল ছিল — সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাস্ত করা, বিদেশের শত্রু দেশগুলোর (বিশেষত জার্মানি ও তুরস্ক) সহায়তা নেওয়া এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটানো। এই সময়কালকে ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে "প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন বিপ্লবী আন্দোলন" বা "হিন্দ-জার্মান ষড়যন্ত্র পর্ব" (Hindu-German Conspiracy) বলা হয়।
বিস্তারিত আলোচনা (Detailed Analysis)
১. বিদেশে ভারতীয় বিপ্লবী আন্দোলন
(A) গদর পার্টি ও গদর আন্দোলন (Ghadar Movement - 1913/1914)
প্রতিষ্ঠা: ১৯১৩ সালের ১লা জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে গঠিত হয় (পূর্বে নাম ছিল Pacific Coast Hindustan Association)।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা: ⭐ লালা হরদয়াল (Lala Hardayal), সোহন সিং ভাকনা (প্রথম সভাপতি), তারকনাথ দাস, বরকতুল্লাহ।
'গদর' শব্দের অর্থ: 'বিদ্রোহ' (Rebellion)। 'গদর' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশিত হতো।
উদ্দেশ্য: বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে ভারতে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটানো।
বিপ্লবী প্রচেষ্টা (১৯১৫): হাজার হাজার গদর বিপ্লবী ভারতে ফিরে আসেন। ⭐ রাসবিহারী বসু (Rashbehari Bose) এবং শচীন সান্যালের নেতৃত্বে ১৯১৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি উত্তর ভারতে ভারতীয় সৈন্যদের সহায়তায় একটি সর্বভারতীয় সশস্ত্র সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনা করা হয়।
ব্যর্থতার কারণ: কৃপাল সিং নামে এক বিশ্বাসঘাতকের দরুন ব্রিটিশ পুলিশ আগেভাগেই পরিকল্পনা জেনে ফেলে। পরবর্তীতে লর্ড হার্ডিঞ্জ Defence of India Act, 1915 কার্যকর করে আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেন।
(B) কোমাগাতামারু ঘটনা (Komagata Maru Incident - 1914)
ঘটনা: ১৯১৪ সালে বাবা গুরদিত সিং (Gurdit Singh) নামে এক ধনী ব্যবসায়ী ৩৭৬ জন ভারতীয় যাত্রীকে (প্রধানত শিখ ও মুসলিম) নিয়ে 'কোমাগাতামারু' নামক একটি জাপানি জাহাজে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
কানাডায় বাধা: বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক আইনের কারণে কানাডা সরকার যাত্রীদের নামতে না দিয়ে জাহাজটি ফিরিয়ে দেয়।
বজবজ সংঘর্ষ (পশ্চিমবঙ্গ): ১৯১৪ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতার কাছে বজবজ (Budge Budge) বন্দরে পৌঁছালে ব্রিটিশ পুলিশ বাধা দেয়। সংঘর্ষে সিপাহীদের গুলিতে ২০ জন যাত্রী শহীদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন। এই ঘটনা গদর আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
(C) বার্লিন কমিটি ও অস্থায়ী ভারত সরকার (Berlin Committee & Provisional Govt)
বার্লিন কমিটি (১৯১৪): জার্মানির সাহায্যে বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত এবং হার্দয়াল জার্মানির বার্লিনে 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স কমিটি' গড়ে তোলেন। এটি "হিন্দ-জার্মান প্লট" নামে পরিচিত।
ক্যাবুল অস্থায়ী সরকার (১৯১৫): আফগানিস্তানের কাবুলে ভারতের প্রথম 'অস্থায়ী স্বাধীন ভারত সরকার' গঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতি: ⭐ রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ (Raja Mahendra Pratap)।
প্রধানমন্ত্রী: ⭐ মৌলভী বরকতুল্লাহ (Maulana Barkatullah)।
6.ভারতে বিপ্লবী আন্দোলন
(A) বাঘা যতীন ও বুড়ি বালামের যুদ্ধ (1915)
নেতৃত্ব: বাংলার যুগান্তর দলের প্রধান ⭐ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)।
জার্মান সাহায্য পরিকল্পনা: জার্মান অস্ত্রবাহী জাহাজ (SS Maverick) থেকে বালেশ্বরে (ওড়িশা) অস্ত্র খালাস করে বাংলায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়।
বুড়ি বালামের যুদ্ধ (৯ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৫): ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়ি বালাম (Buri Balam) নদীর তীরে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্টের বাহিনীর সাথে বাঘা যতীন ও তাঁর চার সঙ্গী (মনোরঞ্জন, চিত্রপ্রিয়, জ্যোতিষ ও নিবেন) ট্রেঞ্চ যুদ্ধ করেন।
পরিণতি: যুদ্ধে চিত্রপ্রিয় শহীদ হন এবং গুরুতর আহত বাঘা যতীন ১০ই সেপ্টেম্বর হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।
(B) সিল্ক লেটার ষড়যন্ত্র (Silk Letter Conspiracy - 1915)
দেওবন্দী ইসলামিক পণ্ডিতদের (যেমন: মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি ও মাওলানা মাহমুদ হাসান) দ্বারা আফগানিস্তান ও তুরস্কের সহায়তায় ব্রিটিশ বিরোধী অভ্যুত্থানের এক গোপন পরিকল্পনা। রেশমি কাপড়ে গোপন বার্তা লেখা হতো বলে একে 'রেশমি রুমাল ষড়যন্ত্র' বলা হয়।
৪. Table: প্রধান বিপ্লবী সংস্থা, নেতা ও ঘটনা
বিপ্লবী আন্দোলন / ঘটনা | স্থান / ক্ষেত্র | প্রধান নেতৃত্ব | ব্রিটিশদের প্রতিরোধ / পরিণতি |
গদর পার্টি (Ghadar Party) | সান ফ্রান্সিসকো (USA) | লালা হার্দয়াল, সোহন সিং ভাকনা | Defence of India Act, 1915 দ্বারা দমন |
কোমাগাতামারু ঘটনা | ভ্যাঙ্কুভার ➔ বজবজ | বাবা গুরদিত সিং | বজবজে পুলিশের গুলি, ২০ জন নিহত |
বুড়ি বালামের যুদ্ধ | বালেশ্বর (ওড়িশা) | ⭐ বাঘা যতীন | বাঘা যতীন শহীদ (১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫) |
অস্থায়ী ভারত সরকার | কাবুল (আফগানিস্তান) | রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ, বরকতুল্লাহ | প্রথম প্রবাসে ভারতীয় সরকার |
সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা | মিরাট, লাহোর, বারাণসী | রাসবিহারী বসু, শচীন সান্যাল | কৃপাল সিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় ব্যর্থ |
৫. Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ 'গদর' শব্দটির অর্থ কী? 'বিদ্রোহ' (Rebellion)।
⭐ গদর পার্টির সদর দফতর কোথায় ছিল? যুগান্তর আশ্রম, সান ফ্রান্সিসকো (ইউএসএ)।
⭐ কোমাগাতামারু কী ছিল? একটি জাপানি বাষ্পীয় জাহাজ (Japanese Steamship)।
⭐ 'বুড়ি বালামের যুদ্ধ' কত সালে হয়? ৯ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ (ওড়িশা)।
⭐ বাঘা যতীন নামে কে পরিচিত ছিলেন? যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (যুগান্তর দল)।
⭐ ১৯১৫ সালে কাবুলে গঠিত অস্থায়ী ভারত সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন? রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ।
⭐ বিপ্লবী রাসবিহারী বসু ১৯১৫ সালের ব্যর্থতার পর ছদ্মবেশে কোথায় পালিয়ে যান? জাপান (P. N. Tagor / পি. এন. ঠাকুর ছদ্মবেশে)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: গদর পার্টির প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা হার্দয়াল।
সঠিক তথ্য: লালা হার্দয়াল ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (General Secretary); গদর পার্টির প্রথম সভাপতি ছিলেন সোহন সিং ভাকনা (Sohan Singh Bhakna)।
ভুলধারণা 2: কোমাগাতামারু একটি বিপ্লবী সংগঠনের নাম।
সঠিক তথ্য: এটি একটি জাপানি জাহাজের নাম, যা ভারতীয়দের কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল।
ভুলধারণা 3: বাঘা যতীন চট্টগ্রামে শহীদ হয়েছিলেন।
সঠিক তথ্য: বাঘা যতীন ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়ি বালামের তীরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন। (চট্টগ্রাম সূর্য সেনের মাস্টারদা বাহিনীর সাথে যুক্ত)।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
গদর পার্টি: ১৯১৩ | সান ফ্রান্সিসকো | লালা হার্দয়াল ও সোহন সিং ভাকনা।
কোমাগাতামারু: ১৯১৪ | জাপানি জাহাজ | বাবা গুরদিত সিং | বজবজ বন্দর সংঘর্ষ।
বুড়ি বালামের যুদ্ধ: ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫ | ওড়িশা | বাঘা যতীন ও চার সঙ্গী।
অস্থায়ী সরকার (কাবুল): ১৯১৫ | সভাপতি: রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ | পিএম: বরকতুল্লাহ।
রাসবিহারী বসু: ১৯১৫ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ➔ ছদ্মবেশে জাপান গমন (পি এন ঠাকুর)।
ব্রিটিশ দমন আইন: Defence of India Act, 1915।
Chat with our faculty on WhatsApp for doubts, explanations, or to join our classes.
Chat on WhatsAppMore from Study Notes (Subject)
পরমাণু (ATOM) ,অণু (MOLECULE) ও যৌগ (COMPOUNDS)
ওয়াভেল প্ল্যান ও শিমলা সম্মেলন (Wavell Plan & Simla Conference - 1945)
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আজাদ হিন্দ ফৌজ, ওয়াভেল প্ল্যান, ক্যাবিনেট মিশন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৩ - ১৯৪৭)
আগস্ট অফার, ক্রিপস মিশন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪০ - ১৯৪২)

Near Vivekananda College More, Burdwan - 713103
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ভারতের বিপ্লবী আন্দোলন (১৯১৪ - ১৯১৮)
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (First World War) শুরু হলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের ব্যস্ততা ও সংকটকে ভারতের বিপ্লবী জাতীয়তাবাদীরা একটি "সুবর্ণ সুযোগ" (Golden Opportunity) হিসেবে গ্রহণ করেন।
বিপ্লবীদের মূল কৌশল ছিল — সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাস্ত করা, বিদেশের শত্রু দেশগুলোর (বিশেষত জার্মানি ও তুরস্ক) সহায়তা নেওয়া এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটানো। এই সময়কালকে ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে "প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন বিপ্লবী আন্দোলন" বা "হিন্দ-জার্মান ষড়যন্ত্র পর্ব" (Hindu-German Conspiracy) বলা হয়।
বিস্তারিত আলোচনা (Detailed Analysis)
১. বিদেশে ভারতীয় বিপ্লবী আন্দোলন
(A) গদর পার্টি ও গদর আন্দোলন (Ghadar Movement - 1913/1914)
প্রতিষ্ঠা: ১৯১৩ সালের ১লা জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে গঠিত হয় (পূর্বে নাম ছিল Pacific Coast Hindustan Association)।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা: ⭐ লালা হরদয়াল (Lala Hardayal), সোহন সিং ভাকনা (প্রথম সভাপতি), তারকনাথ দাস, বরকতুল্লাহ।
'গদর' শব্দের অর্থ: 'বিদ্রোহ' (Rebellion)। 'গদর' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশিত হতো।
উদ্দেশ্য: বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে ভারতে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটানো।
বিপ্লবী প্রচেষ্টা (১৯১৫): হাজার হাজার গদর বিপ্লবী ভারতে ফিরে আসেন। ⭐ রাসবিহারী বসু (Rashbehari Bose) এবং শচীন সান্যালের নেতৃত্বে ১৯১৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি উত্তর ভারতে ভারতীয় সৈন্যদের সহায়তায় একটি সর্বভারতীয় সশস্ত্র সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনা করা হয়।
ব্যর্থতার কারণ: কৃপাল সিং নামে এক বিশ্বাসঘাতকের দরুন ব্রিটিশ পুলিশ আগেভাগেই পরিকল্পনা জেনে ফেলে। পরবর্তীতে লর্ড হার্ডিঞ্জ Defence of India Act, 1915 কার্যকর করে আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেন।
(B) কোমাগাতামারু ঘটনা (Komagata Maru Incident - 1914)
ঘটনা: ১৯১৪ সালে বাবা গুরদিত সিং (Gurdit Singh) নামে এক ধনী ব্যবসায়ী ৩৭৬ জন ভারতীয় যাত্রীকে (প্রধানত শিখ ও মুসলিম) নিয়ে 'কোমাগাতামারু' নামক একটি জাপানি জাহাজে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
কানাডায় বাধা: বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক আইনের কারণে কানাডা সরকার যাত্রীদের নামতে না দিয়ে জাহাজটি ফিরিয়ে দেয়।
বজবজ সংঘর্ষ (পশ্চিমবঙ্গ): ১৯১৪ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতার কাছে বজবজ (Budge Budge) বন্দরে পৌঁছালে ব্রিটিশ পুলিশ বাধা দেয়। সংঘর্ষে সিপাহীদের গুলিতে ২০ জন যাত্রী শহীদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন। এই ঘটনা গদর আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
(C) বার্লিন কমিটি ও অস্থায়ী ভারত সরকার (Berlin Committee & Provisional Govt)
বার্লিন কমিটি (১৯১৪): জার্মানির সাহায্যে বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত এবং হার্দয়াল জার্মানির বার্লিনে 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স কমিটি' গড়ে তোলেন। এটি "হিন্দ-জার্মান প্লট" নামে পরিচিত।
ক্যাবুল অস্থায়ী সরকার (১৯১৫): আফগানিস্তানের কাবুলে ভারতের প্রথম 'অস্থায়ী স্বাধীন ভারত সরকার' গঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতি: ⭐ রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ (Raja Mahendra Pratap)।
প্রধানমন্ত্রী: ⭐ মৌলভী বরকতুল্লাহ (Maulana Barkatullah)।
6.ভারতে বিপ্লবী আন্দোলন
(A) বাঘা যতীন ও বুড়ি বালামের যুদ্ধ (1915)
নেতৃত্ব: বাংলার যুগান্তর দলের প্রধান ⭐ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)।
জার্মান সাহায্য পরিকল্পনা: জার্মান অস্ত্রবাহী জাহাজ (SS Maverick) থেকে বালেশ্বরে (ওড়িশা) অস্ত্র খালাস করে বাংলায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়।
বুড়ি বালামের যুদ্ধ (৯ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৫): ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়ি বালাম (Buri Balam) নদীর তীরে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্টের বাহিনীর সাথে বাঘা যতীন ও তাঁর চার সঙ্গী (মনোরঞ্জন, চিত্রপ্রিয়, জ্যোতিষ ও নিবেন) ট্রেঞ্চ যুদ্ধ করেন।
পরিণতি: যুদ্ধে চিত্রপ্রিয় শহীদ হন এবং গুরুতর আহত বাঘা যতীন ১০ই সেপ্টেম্বর হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।
(B) সিল্ক লেটার ষড়যন্ত্র (Silk Letter Conspiracy - 1915)
দেওবন্দী ইসলামিক পণ্ডিতদের (যেমন: মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি ও মাওলানা মাহমুদ হাসান) দ্বারা আফগানিস্তান ও তুরস্কের সহায়তায় ব্রিটিশ বিরোধী অভ্যুত্থানের এক গোপন পরিকল্পনা। রেশমি কাপড়ে গোপন বার্তা লেখা হতো বলে একে 'রেশমি রুমাল ষড়যন্ত্র' বলা হয়।
৪. Table: প্রধান বিপ্লবী সংস্থা, নেতা ও ঘটনা
বিপ্লবী আন্দোলন / ঘটনা | স্থান / ক্ষেত্র | প্রধান নেতৃত্ব | ব্রিটিশদের প্রতিরোধ / পরিণতি |
গদর পার্টি (Ghadar Party) | সান ফ্রান্সিসকো (USA) | লালা হার্দয়াল, সোহন সিং ভাকনা | Defence of India Act, 1915 দ্বারা দমন |
কোমাগাতামারু ঘটনা | ভ্যাঙ্কুভার ➔ বজবজ | বাবা গুরদিত সিং | বজবজে পুলিশের গুলি, ২০ জন নিহত |
বুড়ি বালামের যুদ্ধ | বালেশ্বর (ওড়িশা) | ⭐ বাঘা যতীন | বাঘা যতীন শহীদ (১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫) |
অস্থায়ী ভারত সরকার | কাবুল (আফগানিস্তান) | রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ, বরকতুল্লাহ | প্রথম প্রবাসে ভারতীয় সরকার |
সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা | মিরাট, লাহোর, বারাণসী | রাসবিহারী বসু, শচীন সান্যাল | কৃপাল সিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় ব্যর্থ |
৫. Important Facts (পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য) ⭐
⭐ 'গদর' শব্দটির অর্থ কী? 'বিদ্রোহ' (Rebellion)।
⭐ গদর পার্টির সদর দফতর কোথায় ছিল? যুগান্তর আশ্রম, সান ফ্রান্সিসকো (ইউএসএ)।
⭐ কোমাগাতামারু কী ছিল? একটি জাপানি বাষ্পীয় জাহাজ (Japanese Steamship)।
⭐ 'বুড়ি বালামের যুদ্ধ' কত সালে হয়? ৯ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ (ওড়িশা)।
⭐ বাঘা যতীন নামে কে পরিচিত ছিলেন? যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (যুগান্তর দল)।
⭐ ১৯১৫ সালে কাবুলে গঠিত অস্থায়ী ভারত সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন? রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ।
⭐ বিপ্লবী রাসবিহারী বসু ১৯১৫ সালের ব্যর্থতার পর ছদ্মবেশে কোথায় পালিয়ে যান? জাপান (P. N. Tagor / পি. এন. ঠাকুর ছদ্মবেশে)।
Common Confusion (যে বিষয়গুলো পরীক্ষায় ভুল হয়)
ভুলধারণা 1: গদর পার্টির প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা হার্দয়াল।
সঠিক তথ্য: লালা হার্দয়াল ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (General Secretary); গদর পার্টির প্রথম সভাপতি ছিলেন সোহন সিং ভাকনা (Sohan Singh Bhakna)।
ভুলধারণা 2: কোমাগাতামারু একটি বিপ্লবী সংগঠনের নাম।
সঠিক তথ্য: এটি একটি জাপানি জাহাজের নাম, যা ভারতীয়দের কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল।
ভুলধারণা 3: বাঘা যতীন চট্টগ্রামে শহীদ হয়েছিলেন।
সঠিক তথ্য: বাঘা যতীন ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়ি বালামের তীরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন। (চট্টগ্রাম সূর্য সেনের মাস্টারদা বাহিনীর সাথে যুক্ত)।
One Minute Revision (Quick Revision Notes)
গদর পার্টি: ১৯১৩ | সান ফ্রান্সিসকো | লালা হার্দয়াল ও সোহন সিং ভাকনা।
কোমাগাতামারু: ১৯১৪ | জাপানি জাহাজ | বাবা গুরদিত সিং | বজবজ বন্দর সংঘর্ষ।
বুড়ি বালামের যুদ্ধ: ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫ | ওড়িশা | বাঘা যতীন ও চার সঙ্গী।
অস্থায়ী সরকার (কাবুল): ১৯১৫ | সভাপতি: রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ | পিএম: বরকতুল্লাহ।
রাসবিহারী বসু: ১৯১৫ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ➔ ছদ্মবেশে জাপান গমন (পি এন ঠাকুর)।
ব্রিটিশ দমন আইন: Defence of India Act, 1915।